• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

জাতীয় গণহত্যা দিবস আজ

সিসি নিউজ: আজ ২৫ শে মার্চ। ১৯৭১ সালের এই তারিখটিতে মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অত্যাধুনিক অস্ত্রসশ্রে সজ্জিত হয়ে তাদের পূর্ব পরিকল্পিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক অভিযানে ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, চালায় ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত ও নিকৃষ্টতম গণহত্যা। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সেই বর্বরোচিত হামলার বিয়োগান্তক ঘটনার স্মরণে এবারই প্রথমবারের মতো ২৫ শে মার্চ ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ পালন করবে জাতি। বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী এই সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় এ দিবসটিতে সরকারের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ইতিহাসের বর্বরোচিত এই গণহত্যার স্মরণে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর চলতি বছর ১১ মার্চ ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য জাসদ দলীয় এমপি শিরীন আখতার জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তোলেন। এ প্রস্তাবের ওপর প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতাসহ ৫৪ জন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী প্রায় ৭ ঘণ্টা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনা শেষে সেইরাতে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, ‘জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জেনোসাইড কনভেনশন গ্রহণ করে। ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বরকে জেনোসাইড ডে হিসেবে ঘোষণা দেয়। কাজেই আমাদের কাছে সেই সুযোগ রয়েছে, জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ী আমরা ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।’

পরে ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকভাবে দিবসটি পালনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় । দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করা হয়।

‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়, বাঙালির মুক্তির আন্দোলনকে শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে ২৫ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা। পৃথিবীর জঘন্যতম এ হত্যার যাতে কোনো সাক্ষী না থাকে, সে কারণে বিদেশি সাংবাদিকদের হোটেলে বন্দি করে রাখা হয়। ২৬ মার্চ তাদের বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান।

নয় মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বাংলাদেশ নামের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নানা কর্মসূচির কথা জানিয়ে ২৩ মার্চ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক জানান, এদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ সংলগ্ন স্থানে ‘রক্তাক্ত ২৫ শে মার্চ: গণহত্যা ইতিবৃত্ত’ শিরোনামে আলোক চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা, উপজেলায় আলোচনা সভা ও গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করা হবে।

বিভিন্ন সংগঠনের নানা কর্মসূচি

সারাদেশে সভা, সমাবেশ, র‌্যালি, আলোকচিত্র প্রদশর্নীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে ২৫ মার্চ বেলা ১১টায় মিরপুর বধ্যভূমিতে এবং ৩০ মার্চ যশোরের চুকনগরে সমাবেশে করবে ১৪ দল। আর ২৫ মার্চ বিকেল ৩টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি।

৩০লাখ বৃক্ষরোপণ করবে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে আসছিল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির শুক্রবার (২৪ মার্চ) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘৪৭ তম গণহত্যা দিবসে ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতি চিরসবুজ করে রাখার জন্য ৩০ লক্ষ বৃক্ষরোপণ করা হবে। আগামীকাল (২৫ মার্চ) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ২৫টি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।’

বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘এ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশে স্বাধীনতার সংগ্রামে শহীদদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণে বিপন্ন পৃথিবীকে রক্ষায় অংশ নেবে।’

২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দিবস পালনের মাধ্যমে দেশে ও দেশের বাইরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের অপচেষ্টা রোধ করা সম্ভব হবে। এতে যেমন নতুন প্রজম্মের আত্মপরিচয়ের সংকট মোচন হবে, তেমনি ধর্মনিরপেক্ষ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছে তা তারা জানতে পারবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ