• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

আইনের পরিপন্থী বয়ান দিতে পারেন না ইমাম: আদালত

ঢাকা: গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় দেয়ার সময় পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, একজন মসজিদের ইমামের দায়িত্ব হলো মুসলমানদের কাছে ইসলামের সঠিক জ্ঞান পৌঁছে দেয়া। তিনি এমন কোনো জ্ঞান বা বয়ান দেবেন না, যা প্রচলিত ফৌজদারি আইনের পরিপন্থী।
রোববার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেনের যৌথ বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের সময় আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি কেউ ইসলাম ধর্ম, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বা অন্য কোনো ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক বা গণমাধ্যমে প্রকাশ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই।

শরিয়া আইন প্রসঙ্গে আদালত বলেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় রয়েছে।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ মামলা যুক্তিতর্ক ও মামলার নথি অনুযায়ী দেখা গেছে, মুফতি জসীমুদ্দীন রাহমানী ছাড়া সব আসামিই ছিলেন মেধাবী। কিন্তু তারা এ পথে কেন গেলেন, তার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মেধাবী ছাত্রদের বিপথে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবার অন্যতম দায়ী বলে মনে করেন আদালত।
আদালত আরো বলেন, বর্তমানে পরিবারগুলো জীবনের বিভিন্ন তাগিদ নিয়েই ব্যস্ত। নিজেদের সন্তানদের খোঁজখবর নেয়া ও তাদের সঠিক পথে পরিচালনার বিষয়ে দায়িত্ব পালন করছে না। সন্তানদের মানসিকতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা কী চায়, তা বুঝতে হবে। এ ছাড়া অভিভাবকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষকের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পরিবারের পাশাপাশি সামাজিক শক্তিকে আরো সচেতন হতে হবে বলে মতে দেন আদালত। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশীয় অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ ঘটাতে হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শকের উদ্দেশে আদালত বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠ ও দক্ষ পুলিশ সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে হবে, যাতে করে নির্ভুলভাবে তদন্তের কাজ হয়।
রোববার এ মামলার রায় বাংলায় পড়ে শোনান আদালত। আদালত বলেন, মামলার আপিলের শুনানি ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছিল। মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ মামলায় রায় বাংলায় ঘোষণা করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ