বিশেষ প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামে চায়ের দোকানদার রফিকুল ইসলামের ৩ সন্তানের জননী গরুর খামার করে এখন স্বাবলম্বী নারী আছিয়া বেগম। স্বামীর গরু পালনের শখ চিরদিনের মতো ধরে রাখতে ছোট গরুর-খামার দেখাশোনা ও পরিচর্যা করে সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন আছিয়া বেগম।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আছিয়া বেগম গরুর খাামারটি নিজ বাড়িতে সাত শতাংশ জমির উপর নির্মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আছিয়া বেগমের খামার ভরা গরু, বাছুর। তিনি গরুকে খাবার দেয়ার কাজে ব্যস্ত।
আছিয়া বেগম বলেন, ২০ বছর আগে চন্দ্রখানা গ্রামের আমজাদ হোসেনের পুত্র রফিকুল ইসলামের সাথে তার বিয়ে হয়। অভাব অনাটনের সংসার চায়ের দোকান করে কোন মতেই চলত। ৩ বছর আগে সামান্য টাকা দিয়ে ৩টি দেশী গরুর বাছুর নিয়ে শুরু ছোট একটি গরুর খামার। তার পরে তারা ওই তিনটি গরু বিক্রি করে একটি হলস্টিন ফ্রিজিয়ান গাভী গরু ক্রয় করে। কিছুদিন পর স্বামী রফিকুল চায়ের দোকান করে আর একটি গরু ক্রয় করে। সেই দুইটি গাভী থেকে এখন আমাদের খামারে হলস্টিন ফ্রিজিয়ান নয়টি গরু রয়েছে । আমরা একন সেই গাভী থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লিটার দুধ বিক্রি করি । এই দুধ বিক্রি করি আমার সংসারের ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসারের খরচ ভালই চলছে। এখন আমাদের আর কোন অভাব নেই খামার দিয়ে আমারা স্বাবলম্বী।
আছিয়া বেগমের স্বামী রফিকুল ইসলাম জানান,আমাদের স্বপ্ন ছিল আমি একদিন বড় গরুর খামাার করব, তাই সামান্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তিনটি গরুর বাছুর কিনে গরু খামার শুরু করি ।এখন স্বপ্ন সত্যি হয়েছে আমাদের খামারে এগার লক্ষ টাকার গরু। তবে আমরা কোন সরকারি সহযোগীতা পেলে আমার ছোট খামারটিকে আর বড় করার ইচ্ছা আছে। যাদে আমাদের এই খামারে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।