সিসি ডেস্ক : দীর্ঘদিন থেকেই নিম্নমানের টিফিন সরবরাহ করায় অবশেষে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে দিনাজপুর শহরের মেয়েদের একমাত্র সরকারি বিদ্যাপীঠ দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনের ন্যায় নিম্নমানের টিফিন সররবরাহ করায় সোমবার (৩ এপ্রিল) বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরবরাহকৃত টিফিন মাঠে ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে ওই বিদ্যলয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের প্রতিজনের কাছ থেকে টিফিন ফি বাবদ প্রতিমাসে ৭০ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু তাদের সপ্তাহে টিফিন দেওয়া হয় ৫ দিন। জানুয়ারি মাসে তাদের কোন টিফিন দেওয়া হয়নি। এছাড়াও এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি, রমজান মাসসহ অন্যান্য সময় স্কুল বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসের টিফিন ফি ঠিকই আদায় করা হয়ে থাকে। কিন্তু এরপরও টিফিনের মান একেবারেই নিম্নমানের এবং পরিমাণ খুবই কম। নামমাত্র টিফিন দিয়ে প্রতিমাসে টিফিন ফি আদায় করা হয় ঠিকই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, তাদের যে টিফিন দেওয়া হয়, তা খাবারের অযোগ্য এবং পরিমাণ একেবারেই কম। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করতে চাইলে তাদের ফেল করিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে জানায় তারা। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে এসব খাবার অযোগ্য টিফিন সরবরাহ করায় বাধ্য হয়েই বেশ কয়েকবার তারা ক্লাস শিক্ষকসহ প্রধান শিক্ষককে অভিযোগ করে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রভাতী শাখায় টিফিন হিসেবে নিম্নমানের এবং গন্ধযুক্ত কেক সরবরাহ করতে গেলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং সব টিফিন স্কুল মাঠে ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে প্রকম্পিত হয়ে উঠে গোটা স্কুল চত্বর।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে, একই ফি-এর বিনিময়ে দিনাজপুর জিলা স্কুলে উন্নতমানের টিফিন দেওয়া হলেও তাদের স্কুলে দেওয়া হয় না।
শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের মৌখিক অভিযোগ করলেও বার বার তাদের নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ জানায়। শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের নাম সংবাদপত্রে আসলে তাদের পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়াসহ তাদের উপর বিভিন্ন নির্যাতন চালানো হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র শেখর ভট্টাচার্য্যকে ফোন করা হলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিয়াকত আলী ফোন রিসিফ করে জানান, স্যার অফিসেই আছেন কিন্তু তিনি কথা বলতে পারবেন না।
তবে সহকারী শিক্ষক লিয়াকত আলী টিফিন নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং টিফিন স্কুল মাঠে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, সোমবারে টিফিন হিসেবে যে কেক দেওয়া হয়েছিলো সেই কেকগুলোর মান ঠিক থাকলেও ক্রিমের ফ্লেভার (গন্ধ) খারাপ ছিলো।
ইতোপূর্বেও টিফিন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রশ্নে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়, তাতে এর চেয়ে ভালো টিফিন দেওয়া সম্ভব হয় না।
কিন্তু জিলা স্কুলে একই টাকায় কিভাবে ভালো টিফিন দেয়া হয়? এমন প্রশ্ন করা হলে সহকারী শিক্ষক লিয়াকত আলী জানান, এখানকার ছাত্রীরা ডালপুরি বা ভাজা জাতীয় টিফিন পছন্দ করেন না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তবে সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
দ্যা রিপোর্ট