বিশেষ প্রতিনিধি: উমর ফারুক। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র নীলফামারী সদর উপজেলার বড় সংগলশী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বাবা মায়ের বড় ছেলে সে। বাবা কৃষি কাজ আর মা গৃহিনী।
ভবিষ্যতের কথা জানতে চাইতে চাইলে মা’র উপস্থিতিতে অকপটে জানালো “পুলিশ কর্মকর্তা” হতে চায় সে। পড়াশোনা শেষ করে ভালো মানুষ হওয়ার ইচ্ছে তার। চায় মানুষের সেবা করতে।
ছেলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মা সিরাতুন বেগম বললেন, সার্বক্ষণিক ছেলেটার দিকে খেয়াল রাখছি। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতেও প্রাইভেট দিয়েছি। যাতে করে ভালোভাবে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে। কষ্ট হলেও চেষ্টা চালাচ্ছি।
আরেক শিক্ষার্থী সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রুমানা আক্তারকে জিজ্ঞেস করা মাত্র জানিয়ে দিলো নিজের পরিকল্পনার কথা। জানালো লেখাপড়া শেষ করে চিকিৎসক হতে চায় সে।
শুধু পুলিশ বা চিকিৎসক নয় পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের কর্মক্ষেত্রের কথা জানিয়েছে দেড় হাজার শিক্ষার্থী।
সোমবার বিকেলে ব্যতিক্রমী ‘আমি হতে চাই’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা গুড নেইবারস। সেখানে অংশনেয়া দেড় হাজার শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ডে নিজের স্বপ্নের কথা লিখে প্রদর্শণ করে সেখানে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুজার রহমান।
বড় সংগলশী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা লাভলী ও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজনের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেন গুড নেইবারস’র নীলফামারী সিপিডি(কমিউনিটি ডিভেলপমেন্ট প্রজেক্ট) ব্যবস্থাপক কর্ণেলিউস দালবৎ।
অন্যান্যের মধ্যে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিল আফরোজ ইয়াসমিন ও সংস্থার মেডিক্যাল অফিসার ফরহাদ হোসেন বক্তব্য দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিল আফরোজ ইয়াসমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। যাতে করে তারা স্বপ্ন লালন করে ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করতে পারে।
অবিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিশুদের উন্নত স্বপ্ন দেখান। প্রাথমিক পর্যায় থেকে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের পাশাপাশি বাবা-মায়েদেরও ভুমিকা রয়েছে।
আয়োজক সংস্থার স্থানীয় প্রধান কর্ণেলিউস দালবৎ জানান, মুলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো মানসিকতা তৈরি করা, লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া, ঝড়ে পড়া হ্রাসসহ শিক্ষা নিশ্চিত করণে সংস্থাটি কাজ করছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা যদি তৈরি করা না যায়, তাহলে গন্তব্য দিকহীন হয়ে পড়ে। এজন্য প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আমরা আগ্রহ তৈরি করছি মাত্র।
গুড নেইবারস সুত্র জানায়, ২০১৩সাল থেকে সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যার সুবিধাভোগী ১৫৪০জন। শিক্ষা উপকরণ, টিফিন বক্স বিতরণ, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে শিশু বান্ধন পরিবেশ কর্মসুচীর আওতায় বেঞ্চ, বুক সেলফ, টিউবওয়েল, পায়খানা নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে ৬টি বিদ্যালয়ে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে আকর্ষণ বাড়াতে বিদ্যালয়কে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দর্শনীয় করতে ফুলের বাগান তৈরিসহ নানার রঙএ সাজানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউএনও’র উৎসাহে আমি হতে চাই কবিতা আবৃতি করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে ঝড়ে পড়া তিন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ ও পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করেন অতিথিরা। শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকসহ স্থানীয় সুধিজনেরা উপস্থিত ছিলেন ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে।