দিনাজপুর প্রতিনিধি: বীরগঞ্জের আলোচিত মো. বাদশা আলমগীরকে জেলে পাঠিয়েছেন দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইসরাইল হোসেন। ওই উপজেলার নওপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক নাজমুন তার বিরুদ্ধে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করে।
মামলার দু বছর পর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে মানসিকভাবে চরম ক্ষোভে ও দুঃখে হতাশাগ্রহস্থ এবং অসুস্থ হয়ে প্রভাষক নাজমুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আসামী বাদশা বীরগঞ্জ উপজেলার মাহানপুর গ্রামের মো. আজহারুল ইসলামের ছেলে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরনে জানা গেছে, বীরগঞ্জ উপজেলার নওপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক নাজমুন নাহারকে (৪৩) বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল আসামী বাদশা আলমগীর (৪৬)। ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারী দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় বাদীনি কলেজের কম্পিউটার রুমে প্রবেশ করলে আসামী আলমগীর বাদীনিকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে রাজী না হওয়ায় জোরপূর্বক বাদীনিকে জড়িয়ে ধরে ধারালো ছোড়া ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ও শরীরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। দস্তাদস্তির এক পর্যায়ে বাদীনি রুম থেকে বের হয়ে যান।
ঘটনার পর বাদশা আলমগীর মোবাইলে বাদীনির নিকট ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। না দিলে মোবাইলে ধারনকৃত ফুটেজ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এতে ভীত হয়ে ও মান-সম্মানের ভয়ে বাদীনি আলমগীরকে বিকাশের মাধ্যমে গত ০৩-০৮-২০১৫ তারিখে ৫ হাজার ও ০৫-০৮-২০১৫ তারিখে ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আসামী আলমগীর। গত ০৮-০৮-২০১৫ তারিখে কলেজে যাওয়ার সময় বাদীনিকে আবারো কু-প্রস্তাব দেয় আলমগীর। এতে রাজী না হওয়ায় আবারো মোবাইলে ধারনকৃত ফুটেজ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে বাদীনি গত ১৮-০৮-২০১৫ তারিখ বীরগঞ্জ থানায় আসামী বীরগঞ্জ উপজেলার মাহানপুর গ্রামের মো. আজহারুল ইসলামের ছেলে মো. বাদশা আলমগীরের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে (সংশোধিত/০৩) আইনের ৯ (৪)খ/১০ ধারায় মামলা করেন। তদন্তের পর বীরগঞ্জ থানা আসামী আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোপত্র দাখিল করে।
আসামী বাদশা আলমগীর গত ১২-০১-২০১৬ তারিখে দিনাজপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল হতে অন্তর্বতীকালিন জামিন নেয়। মঙ্গলবার (০৩-০৫-২০১৭) তারিখ উপরোক্ত ধারায় অভিযোগ শুনানীর পর মামলার সত্যতা রয়েছে মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে আসামীর বিরুদ্ধে বর্ণিত ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। আসামী পুনরায় জামিনের আবেদন করলে দিনাজপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক আসামীর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
সরকারের পক্ষে মামলার শুনানী করেন দিনাজপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি মেহবুব হাসান চৌধুরী লিটন। বাদীনির পক্ষে মামলায় শুনানী করেন বাদীনির আইনজীবী হুসনাউল আসমা। তাঁকে সহযোগিতা করেন এ্যাড. ইমামুল ইসলাম, এ্যাড. আলহাজ্ব মো. সাইফুল ইসলাম, এ্যাড. আলহাজ্ব মো. ওসমান গনি চৌধুরী রাজা, এ্যাড. মো. নাজমুল হক, এ্যাড. আলহাজ্ব মো. সলিমুল্লাহ সেলিম, এপিপি এ্যাড. মো. ইসমাইল হোসেন, এ্যাড. মো. গোলাম রব্বানী প্রমূখ।
এক প্রতিক্রিয়ায় বাদীনির আইনজীবীগণ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ও সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে দ্রুত বিচার আইনে মামলার কাজ সমাপ্ত করার দাবী জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মামলার বাদীনি ভিকটিম এই ঘটনার পর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে মানসিকভাবে চরম ক্ষোভে ও দুঃখে হতাশাগ্রহস্থ এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনজণিত কারনে গত ১৮-০৯-২০১৬ তারিখে রংপুরস্থ কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। সামাজিক মর্যাদা ও মান সম্মানের কারণে বাদীনির স্বামীও বর্তমানে মৃত্যুর পথযাত্রী বলে জানিয়েছেন বাদীনির আইনজীবী ও তাঁর স্বজনরা।