সিসি ডেস্ক: রাজনীতির মাঠে আনপ্রেডিকটেবল চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে।
সরকার থেকে বেরিয়ে সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে, সম্প্রতি দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই মহাজোট ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন এরশাদ। কিন্তু সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা দলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা চেয়ারম্যানের সেই নির্দেশ মানছেন না। তাই তাদের দল থেকে বহিস্কারের দাবিও তুলেছে জাতীয় পার্টিতে থাকা সরকার বিরোধী অংশ।
মহাজোটে নেই কিন্তু আছে সরকারে। এক পক্ষ চান মন্ত্রিসভায় নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করতে তো আরেক পক্ষের চাওয়া সরকার থেকে এখনই বেরিয়ে আসা। এমনই শ্যাম রাখি না কূল রাখি অবস্থা এখন জাতীয় পার্টিতে। খোদ পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের বয়ানেই পরিচয় সংকটে ভুগছে জাতীয় পার্টি।
একই সাথে বিরোধী দল আর সরকারে থাকা গ্রহণযোগ্যতা পায় না-এই যুক্তিতে বছর খানেক আগে সরকার থেকে বেরিয়ে, জাতীয় পার্টিকে সত্যিকারের বিরোধীদলের ভূমিকায় নেয়ার সিদ্ধান্ত হয় দলের প্রেসিডিয়াম বৈঠকে। যেই প্রক্রিয়া সম্পাদনের দায়িত্ব নেন এরশাদ নিজেই। কিন্তু সরকারপন্থিদের বিরোধীতায় আঁতুর ঘরেই মারা পড়ে সেই উদ্যোগ।
তবে মন্ত্রিসভায় থাকা জাতীয় পার্টির এ নেতার দাবি, সরকারে থাকলেও, বিরোধীদলের গঠন ভূমিকা পালনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তারপরও পার্টি চেয়ারম্যান চাইলে, বেরিয়ে আসবেন সরকার থেকে। দলের মহাসচিব বলছেন, জাতীয় পার্টি স্বচ্ছবিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে, ৫৮ রাজনৈতিক দলের ডাউস জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন এরশাদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, এরশাদ সরকারের নির্বাচনী কৌশলের অংশ হয়েছেন মাত্র। যদিও জাতীয় পার্টির নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগের সাথে থাকা না থাকা, নিজেদের নেতৃত্বে কিংবা আওয়ামী লীগের সাথে জোট-সব কিছুই নির্ভর করছে এরশাদ আর দলের স্বার্থের ওপর।