হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম): ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করায় চিলমারী রক্ষা ডানতীর রক্ষা প্রকল্প ও অঁবদা বাঁধ এলাকায় ফের ধস। চিলমারী রক্ষা প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই পাউবোর বাঁধে মঙ্গলবার ফের ধসে গেছে এই নিয়ে গত ১ মাসের ব্যাবধানে ৫ বারের মতো ধস দেখা দেয়ায় আতঙ্কের পর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এবং কুড়িগ্রাম (পাউবো) কর্তৃক ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন থেকে চিলমারী উপজেলাকে রক্ষার বাঁধ নির্মাণে কাজের মান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর বার বার বাঁধ ধসে যাওয়াকে ঘিরে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
জানাগেছে, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত লালমনির হাটের মোঘলহাট থেকে ধরলারপাড় হয়ে উলিপুরের বুড়াবুড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার, বুড়াবুড়ি থেকে ব্রক্ষপুত্র নদের পাড় ধরে চিলমারীর হরিছড়ি রেগুলেটর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার এবং হরিছড়ি থেকে তিস্তা ব্রীজ পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার মিলে প্রায় ১১৪ কিলোমিটার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ নির্মণ করা হয়। ২০১২ সাল থেকে ২’শ ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলাধীন অনন্তপুর নামক স্থান এবং কাঁচকোল ও রমনা এলাকা ভাঙ্গন রক্ষা প্রকপ ফেজ-২ এর কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুনে শেষ হয়। এরই মধ্যে কাঁচকোল উত্তর ওয়ারী এলাকার মঙ্গলবার ১ আগষ্ট প্রায় ২০ মিটার এবং পাশাপাশি একই এলাকায় ১৩ জুলাই পাউবো বাঁধে প্রায় ২৫ মিটার, ১৯ জুলাই কাচকোল দঃ ওয়ারী এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার, ২৫জুলাই কাঁচকোল স্লুইচগেটের উত্তরে কয়েক মিটার ও ২৮ জুলাই স্লুইচ গেটের ১শ গজ উত্তরে প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীতে ধসে যায়। এতে উপজেলা রক্ষার গোটা বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। একের পর এক জায়গায় ধসের সৃষ্টি হওয়ায় নিম্নমানের কাজকে দায়ী করছেন এলাকাবাসীসহ জনপ্রতিনিধিরা।
ধসে যাওয়া এলাকায় বসবাসরত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব এসএম নজরুল ইসলাম, নুর বক্ত, নুরু মিয়া, মঞ্জু মিয়াসহ অনেকে এপ্রতিনিধিকে বলেন, চিলমারী রক্ষার বাঁধ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সিসি ব্লক তৈরি এবং জিও টেক্সটাইল ফিল্টার ও ব্লক বসানোয় মানা হয়নি সরকারি নিয়মাবলি। এমনকি সঠিক ব্লক ডাম্পিং এবং গাইড ওয়ালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্লক না থাকায় কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন জায়গায় ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১ মাসের ব্যাবধানে ৫জায়গায় ব্লক ও পিচিং ধসে যাওয়ার ঘটনায় চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বার বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়া নদী তীরবর্তী মানুষসহ গোটা উপজেলাবাসী।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের দেখা মেলেনি। রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, উক্ত সাইড গুলোর কাজে ডাম্পিং এবং পিচিং কোনটিই ঠিক মতো হয়নি। যার ফলে কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন জায়গায় ধস দেখা দিয়েছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পাউবোকে কে দায়ী করেন। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড উলিপুর-চিলমারীর দায়িত্বে থাকা এসডিই মোখলেছুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি কাজে অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, এ কাজ গুলির ন্যাচারই এরকম, দু’এক টা মৌসুম সমস্যা হয় পরে ঠিক হয়ে যায়।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল বা ধসের ঘটনাটি কোনো ব্যাপার না। ১ বছরের মধ্যে ধস ও ফাটল হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তা ঠিক করে দিবে। পরবর্তী সময়ে সমস্যা হলে আমরা সারা বছর মেরামত করে যাব।