• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপের বিপক্ষে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে কোনো দেশকে হস্তক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। রোহিঙ্গা সংকটকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও উল্লেখ করেছে তারা।শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের উদ্যোগ শুধু ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাকে উদ্ধৃত করে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, এটা মনে রাখা দরকার যে, একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা কেবল আন্তঃধর্মীয় বিরোধ বাড়িয়ে দিতে পারে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলছেন, মিয়ানমারে সংকট সমাধানে ধর্মীয় নেতাদের আলোচনার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে মস্কো। এক্ষেত্রে মিয়ানমারের বহু জাতিগোষ্ঠীর মুসলিম কমিউনিটিকে প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষস্থানীয় সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, যারা ওই এলাকায় (রাখাইন) সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা সরকারের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি এবং ওই ধর্মের অনুসারীদের প্রতি উগ্রপন্থিদের উসকানিতে ঝাপিয়ে না পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ ‘বাস্তবায়নে’ মিয়ানমারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে মস্কো।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনের গ্রামের পর গ্রামে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাজ্যটির প্রায় ২০০ গ্রাম এখন জনশূন্য। রাখাইন রাজ্যের শত শত মুসলিম সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। পুরো বিষয়টিকে ‘আন্তঃধর্মীয় সংঘাত’ বলে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া।শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মিয়ানমারে ভীষণ আন্তঃধর্মীয় সংঘাত চলছে। এ সময় বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ সেই সংঘাতকে আরও শোচনীয় করতে পারে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ সেখানকার আন্তঃধর্মীয় বিবাদ আবার ফিরিয়ে আনতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত বিবৃতি বিবেচনায় নিয়েছি। আমরা মিয়ানমার সরকারের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করছি এবং সন্ত্রাসীদের প্ররোচনা এড়িয়ে চলতে সব ধর্মের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ