সিসি নিউজ: বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ কবির ও তার স্ত্রী সাবরিন আহমেদ ইভার নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে এ পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্যও পেয়েছে সংস্থাটি। রোববার কমিশনের বৈঠকে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক ফিরোজ কবির ও সাবরিন আহমেদ ইভার বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলার অনুমোদন দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মামলায় প্রথম আসামি করা হবে পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ কবিরকে। তার নিজ নামে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৯ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পেয়েছে দুদক। মামলায় দ্বিতীয় আসামি করা হবে ফিরোজ কবিরের স্ত্রী সাবরিন আহমেদ ইভাকে। তার নামে ৭০ লাখ ৮ হাজার ৭৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক। স্বামী-স্ত্রী দুইজনের নামে মোট ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৭৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।
দুদক সূত্রে আরো জানা গেছে, ফিরোজ কবির ও স্ত্রী সাবরিন আহমেদ ইভার দৃশ্যমান অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এসব ফ্ল্যাটের দলিল মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।এছাড়া রয়েছে একটি বিলাসবহুল গাড়ি। গাড়ির দর দেখানো হয়েছে মাত্র ৯ লাখ টাকা। রয়েছে ৬৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, টার্ম ডিপোজিট ২৭ লাখ টাকা, ডিপিএস ৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ও সঞ্চয়ী/চলতি হিসাবে আছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে আরো বেরিয়ে আসে, ফিরোজ কবির ও তার স্ত্রী সাবরিনা আহমেদ ইভার ব্যাংক হিসাবে বৈধ আয়ের অতিরিক্ত মোট ৩০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা জমা হয়েছে। সন্দেহজনক উৎস থেকে প্রাপ্ত এসব অর্থ এভাবে জমার প্রমাণ পায় দুদক।কমিশনের অনুসন্ধানের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ফিরোজ কবির ও তার স্ত্রী সাবরিন আহমেদ ইভার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন,২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।দুদক উপপরিচালক মো. আহমার উজ্জামান এসব ঘটনা অনুসন্ধান করেন।