বিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে ওর্য়াল্ড ভিশন নামের একটি উন্নয়ন সংস্থার ফ্যাসিলেটর।
রবিবার বিকেলে ওই মেয়েকে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সেক্সুয়াল এ্যাসাল্টে’র অভিযোগে।
সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের নটখানা গ্রামে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার ওই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নিবারণ দাস (৩৫) একই গ্রামের বীরেন দাসের ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিত মেয়েটির মা রওশন আরা অভিযোগ করে বলেন, দুপুরে নটখানা শিশু বিকাশ স্কুল থেকে চিঠি লেখার কথা বলে বের করে নিয়ে যায় নিবারণ। পরে স্কুলের পাশে একটি ফাঁকা বাড়িতে ধষর্ণের চেষ্টা করে তাকে।
তিনি বলেন, বিষয়টি বাড়িতে এসে আমাকে জানালে অসুস্থ্য বোধ করায় তাকে (মেয়েকে) বেলা ৩টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করি।
দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রী জানায়, নির্যাতনের পর বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকী দেয় আমাকে। আমার হাতের লেখা চিঠি ওয়ার্ল্ড ভিশন থেকে চাওয়া হয়েছে বলে আমাকে স্কুল থেকে নিয়ে যায় নিবারন।
ব্র্যাক পরিচালিত স্কুলটির শিক্ষক মিনতি রানী জানান, দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশি নিবারণ ওয়ার্ল্ড ভিশনের কথা বলে মেয়েটিকে স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যান।
সে (নিবারণ) স্থানীয় অসহায় দরিদ্র শিশু শিক্ষার্থীদের এনজিওর মাধ্যমে সহায়তা করে আসছিলো বলে জানান মিনতি।
আজকে কাজের কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে গিয়ে যে ঘটনার অবতারণা করেছে সেটি ঘৃণিত।
এদিকে সন্ধ্যায় অভিযুক্ত নিরারণের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলেও ঘটনাটি চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেন পরিবারের সদস্যরা। তার বড়ভাই রতন দাস বলেন, ওর বয়স ৩৫ বছর। স্নাতোকোত্তর সম্পন্ন করেছে সে। বাড়িতে টিউশনি করে। ওর দ্বারা এরকম ঘটনা ঘটতে পারে না। আমার এটি বিশ্বাস হয় না।
আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার সামিউল ইসলাম জানান, সেকসুয়াল এ্যাসাল্ট-এ ভর্তি করা হয় তাকে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে তার।
তবে ঘৃণিত ওই কাজটির জন্য দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করেছেন পলাশবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে চেয়ারম্যানসহ মেয়েটির বাড়িতে যাই। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সে।
অভিযুক্ত নিবারনকে শাস্তি পেতে হবে। এজন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
যোগাযোগ করা হলে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবুল আখতার বলেন, থানায় এজাহার দেননি কেউ। দেয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে নিবারণ উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্টাফ নয় জানিয়ে সংস্থাটির স্থানীয় ব্যবস্থাপক বিমল জেমস কস্তা জানান, কমিউনিটি পর্যায়ে চাইল্ড স্পন্সরশীপ প্রোগ্রামে ফ্যাসিলেটর হিসেবে কাজ করছে সে।
প্রসঙ্গত সংস্থাটি নীলফামারীর চারটি ইউনিয়নে শিশু সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছে ২০১০ সাল থেকে।