মুতাসিম বিল্লাহ পাপ্পু, ইবি: “দেইখেই বুঝছি সাংবাদিক। লেখেন বেশি কইরে লেখেন। আগেরডার চাইয়ে বড় কইরে লেখেন। নিউজ কইরে কাজ হবিনা।” ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল পুকুর ঘাটে ডেকরেটরের সরঞ্জাম ধৈত করতে আসা হারুন নামের এক কর্মচারী সংবাদিককে এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী শেখ পাড়া বাজারের জিয়া ডেকরেটরে কাজ করে হারুন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র দৃষ্টি নন্দিত পুকুর ঘাটকে ডেকরেটর মালিকরা সরঞ্জাম ধৈত করার কাজে দীর্ঘ দিন থেকে ব্যাবহার করে আসছে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোন প্রকার ফলাফল লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।
এই বর্ষা মৌসূমে পানিতে ভরপুর হয়ে গেছে পুকুরটি। পুকুরে পদ্ম ফুল ফুটতে শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রকারের কুচুরিপানাও জন্মেছে পুকুরে। যার ফলে পুকুরের সৌন্দর্যের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুন্দর দৃশ্যকে অবলোকন করার জন্য বিকেলবেলা শিক্ষার্থীদের আড্ডা লক্ষ্য করা যায় পুকুর ঘাটে।
কিন্তু ডেকরেটরের এসমস্ত ময়লা সরঞ্জাম ধৈত কারার ফলে পানি ও আশপাশের পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। ফলে পুকুরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পূর্বের তুলনায় এবর রক্তিম পদ্ম ফোটার পরিমানও কম দেখা যাচ্ছে।
সচেতন শিক্ষার্থীরা মনে করছেন স্থানীয়দের প্রভাব থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ মুক্ত করতে না পারা প্রশাসনের এক প্রকার ব্যর্থতা। তারা যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধে বিচরণ করছে মনে হয় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তোয়াক্কাই করছে না।
এবিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রিজভী আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র পুকুরটি সৌন্দর্যের ধারক। কিন্তু অবাধে ডিটার্জেন্ট ব্যবহারের ফলে এই জলজ উদ্ভিদ গুলো কমে যাচ্ছে। এবিষয়ে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ করছি।”
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসকে অপরিষ্কার রাখার কোন ভাবেই সুযোগ নেই। আমরা এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার মাধ্যমে দেখব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য বজায় রাখতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। কেউ অপরিষ্কার করতে চাইলে তা কোন ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ”
ডেকরেটর কর্মচারীর কথার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “সে খুবই খারাপ কথা বলেছে। বিষয়টি আমি আমলে নিচ্ছি।”