সিসি নিউজ, ৫ মার্চ: জঙ্গি সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র যে ছয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের পাঁচজনই জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে পলাতক। বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্তত ১১ শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে উপাচার্য বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে জড়ানো ঠেকাতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
আপাতদৃষ্টে সবকিছু স্বাভাবিক। শান্ত নিরিবিলি ছায়াঘেরা ক্যাম্পাস। সেশনজট না থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থাও গতিশীল। রাজনৈতিক হানাহানিও তেমন নেই। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে জঙ্গিবাদের বিষবাষ্প। জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিম সদস্য সংগ্রহে টার্গেট করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে। এ পর্যন্ত অন্তত ১১ শিক্ষার্থী আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের তৎপরতায় সক্রিয় বলে প্রমাণ পেয়েছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের সাথে সম্পৃক্ত ১১ জনের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইনজিয়ারিং বিভাগের চার জন ও ইন্ডাষ্ট্রিয়াল প্রডাকশন বিভাগের দু’জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যরা পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত, ব্যবসায় রসায়ন ও ইংরেজী বিভাগের ছাত্র।
গোয়েন্দা তথ্য, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র মোজাম্মেল হোসাইন, লেখক অভিজিৎ রায়সহ কয়েক জন ব্লগার হত্যা মামলার আসামি। গত বছরের ১৮ নভেম্বর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। একই বিভাগের আশফাকুর রহমান অয়ন, গণিত বিভাগের ইব্রাহীম ইবনে মোল্লা, আইপিই এর ছাত্র আব্দুল আজিজ ও ইফফাত আহমেদ চৌধুরী, সিএসইর ছাত্র সাদমান আবেদীন লিয়নকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। মোজাম্মেল ছাড়া বাকিরা জামিনে বেরিয়ে পলাতক। এদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, এই প্রশ্নের সদুত্তর নেই প্রক্টরের কাছে।
এদিকে, নতুন করে যাতে কোন শিক্ষার্থী জঙ্গিবাদে জড়াতে না পারে, সেজন্য নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন উপাচার্য। অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর এখন বেশ সতর্ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উৎস: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন