জয়পুরহাট প্রতিনিধি, ২৮ মে: জয়পুরহাট জেলার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে টেন্ডার ও মান নিয়ন্ত্রন ছাড়াই স্থাপন করা নিম্নমানের শীতাতপ যন্ত্রের বিড়ম্বনায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মুসল্লীরা। ক্রয় কমিটির খাম খেয়ালীপনা বা রহস্যজনক আর্থিক সুবিধা লাভের কারনে নিম্নমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র কেনায় এর মাশুল গুনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুসল্লীগন।
জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের সর্ব বৃহৎ জয়পুরহাট জেলার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি ৮০ দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়। সমৃদ্ধ অর্থায়নের উৎস থাকলেও জেলা শহরের প্রানকেন্দ্র জিরো পয়েন্টে অবস্থিত এ মসজিদটির সাজ সজ্জার কাজ চলছে ধীরগতিতে। বর্তমানে মসজিদটির দোতলায় একই সাথে ৪ হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন।
আর নিজ তলার শতাধিক দোকান ঘরের আদায়কৃত বিপুল অংকের অর্থ দিয়ে মেটানো হয় মসজিদের সংস্কার, উন্নয়ন ও খতিব, ইমামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা। বৃহৎ এ মসজিদটির উন্নয়নের অংশ হিসেবে গত প্রায় ৩ বছর আগে শীতাতপ করনের কাজ শুরু করা হলেও ত্রুটিপূর্ন ও নিম্নমানের শীতাতপ যন্ত্র সংযোজনের ফলে সেগুলো থেকে সুবিধা পাচ্ছেন না বলে জানান মুসল্লীগন। মোয়াজ্জেম হোসেন, আনোয়ার হোসেন, নবীবর রহমানসহ অনেক মুসল্লীরা অভিযোগ করে বলেন, মসজিদটিতে ছোট বড় ১৭টি এসি সংযোজন করা হলেও নামাজের সময় ঠান্ডার পরিবর্তে গরমে শরীর দিয়ে ঘাম ঝরে। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অধিকাংশ মুসল্লীদের অভিযোগ, নিম্নমানের এসি লাগিয়ে এ মসজিদ কমিটি অর্থ আত্মসাৎ করতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ হয়।
জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সহ সভাপতি মওলানা আব্দুল মতিন জানান, মসজিদের এসি কেনার জন্য মসজিদ কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম ও বেলায়েত হোসেন লেবুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা গত ৩ বছর পূর্বে ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা দরে প্রতিটি ৫ টনের ৮টি এসি কেনেন ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকায়।
পরবর্তীকালে গত বছর ৬৪ হাজার টাকা দরে ২ টনের ৫টি ও এ বছর ৫৮ হাজার টাকা দরে ২ টনের ৪টি এসি কেনা হয়। সর্বমোট এসি কেনা বাবদ মসজিদ তহবিল থেকে সর্বমোট প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যায় করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন মসজিদ কমিটির সহ সভাপতি মওলানা আব্দুল মতিন। মসজিদ কমিটির সদস্য হেলাল উদ্দিন ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেন, ’ ক্রয় কমিটির ব্যর্থতার জন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
এ ব্যাপারে এসি ক্রয় কমিটির সদস্য বেলায়েত হোসেন লেবু বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি হলে আমাদের করার কি আছে ? আমাদের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠি বিশেষ সুবিধা না পেয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’ তবে ওয়ারেন্টি ও মান নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ছাড়াই এসব এসি কেনার কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি।
জয়পুরহাট জেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মোমেন আহম্মেদ চৌধূরী বলেন, “অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।”