• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

সৈয়দপুরে ঘাম আর পামওয়েলে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই

॥ এম আর মহসিন/ সাব্বির আহমেদ সাবের ॥

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। শ্রমিকের গায়ের ঘাম আর নিম্নমানের পামওয়েলের মিশ্রণে তৈরি এসব লাচ্ছা একশ্রেণির অসাধু ও মৌসুমী ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বাজারজাত হচ্ছে গোটা দেশে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশংকা করছেন স্বাস্থ্য সচেতন মহল।
একটি সূত্র জানায়, সেমাই তৈরীর কারখানায় অবাধ আলো-বাতাস প্রবেশসহ উন্নত ব্যবস্থাপনা, কারিগরদের এ্যাপ্রন ও বিশেষ ধরনের হাতমোজা পরা বাধ্যতামূলক। লাচ্ছার উপকরণ হিসেবে উন্নত ময়দা, ভেজিটেবল ফ্যাট ওয়েল, ডিম, ঘি, ডালডা ব্যবহার করার কথা। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না। তারা অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের আশায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করছেন লাচ্ছা সেমাই। এসব ব্যবসায়ীর পাশাপাশি অনুমোদিত ফ্যাক্টরী মালিকরাও সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন। তাদের কারখানায়ও ভেজাল লাচ্ছা উৎপাদন করা হচ্ছে।
সরেজমিন শহরের মজা, সোনালী, শাহি, বাঁধন, ভাই-ভাই, রুচিতা, গাউসিয়া, মদিনা লাচ্ছা সেমাই কারখানায় ভেজাল লাচ্ছা তৈরির চিত্র পাওয়া গেছে। এসব কারখানার মেজে কাচা, শ্রমিকদের শরীরে এ্যাপ্রোন নেই। বরং খোলা ও ঘর্মাক্ত শরীরে কাজ করছে শ্রমিকরা। কারখানা ঘরের ভেতরে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নেই। মেজেতে ছড়ানো পামওয়েলের ড্রামের উপরই নিম্ন মানের ময়দায় সেমাইর খামির করা হচ্ছে। অনেকে রুটি তৈরীর ট্রেতে শানছে ময়দা। মেশিনের পাশাপাশি পা দিয়েও খামির তৈরি করতে দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবান তৈরির এ্যানিমেল ফ্যাট, নিম্নমানের ময়দা, পামওয়েল এবং ঘি এর কৃত্রিম সুগন্ধি ছিটিয়ে এসব লাচ্ছা ভাজার পর নামি-দামি কোম্পানির নকল মোড়কে আবার খোলা দেয়া হচ্ছে বাজারে। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, কোম্পানির নাম, মেয়াদ, উপকরণের নাম নেই। আবার অনেকে প্যাকেট ছাড়াই অনেকটা খোলা অবস্থায় করছে বাজারজাত। নিয়মনীতিকে অনেকটা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উৎপাদকরা পাইকারি ও খুচরা দরে এসব লাচ্ছা নীলফামারীসহ দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারসহ গোটা দেশে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এসব ভেজাল উপকরণে তৈরি লাচ্ছা বিশাল জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ্য ঝুকিঁতে ফেলবে বলে আশংকা করছেন স্বাস্থ্য সচেতন মহল।
সৈয়দপুর উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স এর ইনচার্জ ডাঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিসি নিউজকে বলেন, এসব ভেজাল লাচ্ছা খেলে মানুষের পেটের পীড়া, উদরাময়, লিভার সিরোসিস হতে পারে। বিশেষ করে এসব লাচ্ছা খাওয়ার ফলে শিশুদের সমস্যা বেশি হতে পারে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট এন্ড কনফেকশনারী প্রস্তুতকারক সমিতির নীলফামারী জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব জোবায়ের আলম সিসি নিউজকে বলেন, অবৈধ মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কারণে আমাদের লাচ্ছার বিক্রি কমে গেছে। পাশাপাশি সুনামও নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে সৈয়দপুরের সকল বৈধ ব্যবসায়িরা ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সৈয়দপুর উপজেলার স্যানিটারি পরিদর্শক মোঃ আলতাফ হোসেন সিসি নিউজকে জানান, পচা ডিম, এ্যানিমেল ফ্যাট এবং কৃত্রিম ঘি ও সুগন্ধি মিশ্রিত ভেজাল লাচ্ছা সেমাই তৈরী যাতে না হয় কারখানাগুলোতে নজরদারি রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ