• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

শুদ্ধাচারে ব্যাংকের কর্মকর্তারাও পুরস্কার পাবেন

সিসি ডেস্ক, ০৮ আগষ্ট: শুদ্ধাচার চর্চার জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও পুরস্কার দেওয়া হবে। পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা এবং সততার নিদর্শনসহ ২০টি সূচকের উপর ভিত্তি করে প্রতি পঞ্জিকাবর্ষে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে শতকরা ৮০ নম্বর পেলেই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবেন। পুরস্কার হিসেবে নির্বাচিতদের একটি সার্টিফিকেট এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে। বুধবার দেশের সব তফসীলি ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারিদের জন্য এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান’ শীর্ষক এ নীতিমালা ২০১৮ সাল থেকেই কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় : জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শিরোনামে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল মন্ত্রিসভা-বৈঠকে অনুমোদিত হয়। জাতীয় শুদ্ধাচার কেীশলের রুপকল্প ‘সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা’ এবং অভিলক্ষ্য ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা’। এ কৌশল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদ এবং অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।
জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা কমিটি গঠিত হয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শুদ্ধাচার কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে। ওই কর্ম-পরিকল্পনায় অন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুদ্ধাচার চর্চায় সরকারের কার্যক্রমের সামান্তরালে দেশের তফসিলী ব্যাংকগুলোতেও অনুরুপ কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। এছাড়া সব ব্যাংকে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নৈতিকতা কমিটি গঠন, ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক হতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় শুদ্ধাচার কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারিদের পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে এ নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, শুদ্ধাচারের ২০টি সূচকের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি সূচকের প্রাপ্ত নম্বর থাকবে ৫।  এগুলো হলো- পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততার নিদর্শন, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, সেবা গ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা, সমন্বয় ও নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা, পেশাগত, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা, প্রতিষ্ঠানের প্রতি অঙ্গীকার, উদ্ভাবন ও সূজনশীলতা চর্চা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, উপস্থাপন দক্ষতা, প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে আগ্রহ, অখিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা, সংশ্লিস্ট আইন ও বিধানবলী সম্পর্কে আগ্রহ ও পরিপালনে দক্ষতা এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ধার্য্যকৃত অন্যান্য কার্যক্রম।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, পুরস্কারের জন্য বিবেচ্য কর্মকর্তা কর্মচারীকে ন্যূনতম ৩ বছর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চাকরি করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর গুণাবলী সূচকের বিপরীতে প্রাপ্ত সর্বমোট নম্বরের ভিত্তিতে সেরা কর্মকর্তা কর্মচারী হিসাবে মূল্যায়ন করা হবে। কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর প্রাপ্ত নম্বর কমপক্ষে ৮০ না হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া কোনো কর্মকর্তা কর্মচারি যে কোনো ইংরেজী বর্ষে একবার শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলে তিনি পরবর্তী ৩ পঞ্জিকা বর্ষের মধ্যে পুনরায় পুরস্কার পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না।
নীতিমালা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ব ও বিশেষায়িত এবং বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা পুরস্কারের আওতায় আসবেন তা ধাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ব ও বিশেষায়িত ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হতে পরবর্তী নিম্নতর দুই ধাপের কর্মকর্তারা, চতুর্থ ধাপের কর্মকর্তা হতে ষষ্ঠ ধাপের কর্মকর্তারা, সপ্তম ধাপের কর্মকর্তা হতে পরবর্তী নিম্নতর ধাপসমূহ এবং ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও কর্মচারীরা।
বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হতে পরবর্তী নিম্নতর তিন ধাপের কর্মকর্তারা, পঞ্চম ধাপের কর্মকর্তা হতে সপ্তম ধাপের কর্মকর্তারা, অস্টম ধাপের কর্মকর্তা হতে পরবর্তী নিম্নতর ধাপের কর্মকর্তারা এবং ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও কর্মচারীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ