সিসি ডেস্ক, ৩০ আগষ্ট ।। মাঠ প্রশাসনের ডিসি ও ইউএনওদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে সিটে থাকতে হবে। এসংক্রান্ত পুরনো একটি পরিপত্র গত মঙ্গলবার আবারও জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অফিশিয়াল ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তাঁদের অনেকে সকালে অফিসে থাকেন না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যোগাযোগ করতে গিয়ে সকালের দিকে অনেক ডিসি-ইউএনওকে অফিসে পাওয়া যায় না। এ কারণে নতুন করে পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখন থেকে ডিসি-ইউএনওদের প্রতি মিনিটের হিসাব চাইলে কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের—এমন কড়া বার্তাই তাঁদের দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ডিসি ও ইউএনওদের।
মন্ত্রিপরিষদসচিব স্বাক্ষরিত পরিপত্রে মাঠপ্রশাসনের সব কর্মচারীর জন্যই সময়ের বিষয়টি প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূলত ডিসি ও ইউএনওদের উদ্দেশ করেই পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে। অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তা ঠিক সময়ে এলে অন্যরা এমনিতেই তাঁকে অনুসরণ করতে বাধ্য হন।
জামালপুরের ডিসি থাকাকালে আহমেদ কবীরের ভিডিও কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রশাসনে প্রচণ্ড সমালোচনা হচ্ছে। প্রশাসনের মুখে কালি পড়ার মতো এ ধরনের কাণ্ডে জড়িত আহমেদ কবীরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে সব প্রশাসনের সব কর্মকর্তাই একাট্টা। একই সঙ্গে ভিডিওটি একজন ডিসির খাসকামরা থেকে কিভাবে প্রকাশ হলো সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলে, ডিসি হচ্ছেন মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। জামালপুর একটি সীমান্ত এলাকা। এখানে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ডিসি সাহেবকে দেখতে হয়। তাঁর ব্যক্তিগত কামরার ভিডিও যদি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রের গোপনীয় অনেক বিষয়ও সরানো হতে পারে। সূত্র মতে, তাই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তাঁর নৈতিক স্খলনজনিত কারণে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিই ভোগ করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মনে করে, ভিডিও ফাঁসকারীদের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় কোনো বিষয় আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এমনিতে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা ডিসিদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদসচিব বিভন্ন ইস্যুতে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্স ও টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। জামালপুরের ঘটনার পর ডেঙ্গু ইস্যুসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সামনের দিনে এই প্রক্রিয়া আরো জোরদার করা হবে। মন্ত্রিপরিষদসচিবের অনুশাসনে বিশেষ করে সকালে অফিস ডেস্কে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিতির বিষয়টি সময় উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘এ মর্মে অনুশাসন প্রদান করা যাচ্ছে যে, তারা (মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা/কর্মচারী) সকাল ৯.০০ থেকে ৯.৪০ মিনিট সময় পর্যন্ত আবশ্যকীয়ভাবে নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নকালে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তাদের সকাল ৯.০০ থেকে ৯.৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে অবস্থান ব্যাহত না হয়’। তবে ভিআইপি/ভিভিআইপিদের প্রটোকল, আকস্মিকভাবে ঘটা বড় কোনো দুর্ঘটনা, গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং অনুমোদিত ভ্রমণের সময় এই নিয়ম কার্যকর হবে না বলেও অনুশাসনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠ