সিসি নিউজ, ১৪ মার্চ ।। মধ্যরাতে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযান চালিয়ে কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল গাফফার খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব ও একজন যুগ্ম সচিব জানান, কুড়িগ্রামের বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর। কোনোভাবেই মধ্যরাতে টাস্কফোর্সের অভিযান আইনসম্মত নয়। অবশ্যই টাস্কফোর্সকে সকাল না হওয়া পর্যন্ত অপক্ষা করতে হবে, তাই বিধান রয়েছে। মধ্য রাতে অভিযান ও সাজা দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। এ ধরনের কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে সরকার ও প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা কমায় এবং পরিস্থিতি বিরূপ করে তোলে।
তারা উভয়েই জানান, যেহেতু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই বিষয়ে অবগত ও বিব্রত তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ বিষয়ে বলেছেন, সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের ওপর যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসককে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।
এদিকে আজ শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্তর এলাকায় এ মানববন্ধন করে সর্বস্তরের সাংবাদিকগণ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লব, দৈনিক কুড়িগ্রাম খবরের সম্পাদক এসএম ছানালাল বকসী, কুড়িগ্রাম প্রেস কাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ভৌমিক, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলমগীর, সাংবাদিক রাজু মোস্তাফিজ, হুমায়ুন কবির সুর্য, হাসিবুর রহমান হাসিব, এসএম আশরাফুল হক রুবেল, স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক জাগোবাহের সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদ দুলাল বোস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এর সদস্য সচিব হেলাল আহমেদ, জেলা বিসিডিএস এর প্রতিনিধি উজ্জল চন্দ্র সরকার, আরিফুলের প্রতিবেশি আব্দুস ছাত্তার লিটনসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে মুক্তি না দিলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা দেন সাংবাদিক নেতারা।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে ধরে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট।
মধ্যরাতে ডিসি অফিসের দুই-তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে নিয়ে দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করেন। তবে তারা কোনও তল্লাশি অভিযান চালাননি। পরে ডিসি অফিসে নেওয়ার পর তারা দাবি করেন, আরিফুলের বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে।