পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: গত দুই মাস ১২ দিন ধরে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের এক মাত্র কয়লা ভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ২৫০ মেগাওয়ার্ট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে বন্ধ রয়েছে। গত ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভোরে বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া ১নং ইউনিট দিয়ে প্রতিদিন ৯০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন হত। বর্তমানে ২নং ইউনিটি দিয়ে ৮০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রোববার দুপুরে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আলম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন বর্তমানে ২নং ইউনিটি দিয়ে ১০০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ ১নং ইউনিটটি উৎপাদনে যাবে তা নিশ্চিত কিছু বলতে পারেননি।
পার্বতীপুরস্থ বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দু’টি ইউনিট রয়েছে কেন্দ্রটিতে। দু’টি ইউনিটেরই ইন্সট্রাকটর, কম্পিউটার রুমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও আইডি ফ্যানসহ কম্পিউটার রুম, যান্ত্রিক রুম, রিলে রুম, ব্যাটারি চার্জিং রুম, টারবাইন ডিসিএস এবং কম্পিউটার মনিটর অপারেটিং সিস্টেমে ত্র“টি রয়েছে। একটি সুত্রে জানা যায়, প্রতিবার মেরামতের সময় অরিজিনাল যন্ত্রাংশ কেনার নামে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ কিনে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এদিকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি না পেলে এখন ইরি-বোরো সেচ মৌসুমে সংকটে পড়বে কৃষকেরা। সংশি¬ষ্টদের দাবি, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলীর অদক্ষতা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতার কারণেই এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। তেমনটি হলে দেশের এক মাত্র কয়লা ভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।