সিসি ডেস্ক ।। বাগেরহাটের শরণখোলায় বেড়িবাঁধে অধিগ্রহণকৃত জমি এবং ওই জমিতে থাকা ঘর ও গাছপালার ক্ষতিপূরণের অর্থের নোটিশ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী ও গাবতলা গ্রামের ১০৭ জন ক্ষতিগ্রস্তের হাতে এই নোটিশ হস্তান্তর করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শাহীনুজ্জামান।
আগামী একসপ্তাহর মধ্যে নোটিশে উল্লেখিত অর্থের চেক উপকারভোগীদের হাতে হস্তান্তর করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে। পরবর্তীতে অধিগ্রহণকৃত প্রায় ১৭ একর জমির মালিকানা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি নোটি পৌঁছে দেওয়ায় অনেকে খুশি হলেও কেউ কেউ তাদের ন্যায্য পাওরা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। কারো কারো নাম তালিকাভূক্ত হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আ. কাদের হাওলাদার জানান, তিনি ৯২হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের নোটিশ পেয়েছেন। কিন্তু তার কমপক্ষে তিন লাখ টাকা পাওয়ার কথা। রিজিয়া গেম জানান, তাকে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকার নোটিশ দেওয়া হলেও তাতে তিনি খুশি নয়। ছগির হাওলাদার জানান, তার ঘর বেড়িবাঁধের মাপের মধ্যে পড়লেও তালিকায় ওঠেনি তার নাম। এভাবে অনেকেই বাস্তবতার সাথে গরমিল ও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, বগী থেকে গাবতলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৬ একর ৮৯ শতাংশ জমি নতুন করে অধিগ্রহণ করা হয়। জমিসহ এর মধ্যে অবস্থিত ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষতিপূরণবাবদ ৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। ক্ষতিপূরণের পুরো টাকা যাতে উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেক হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নোটিশ হস্তান্তা উপলক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন, জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মমতাজ বেগম, উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকা ব্যয়ে বাগেরহাটের শরণখোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৩ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এই পোল্ডারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বগী এবং দক্ষিণ সাউথখালী আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার নদী শাসন না হওয়ায় বাঁধ নির্মাণ বন্ধ থাকে। ওই এলাকায় বর্তমানে সেনা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে জরুরি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য ওই জমি অধিগ্রহণ করা হয়।