• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন |

বেরোবিতে উপাচার্য কলিমউল্লাহর কুশপুত্তলিকা দাহ

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রতিবাদে রংপুরে মশাল মিছিল ও উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করে উপাচার্যকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন স্লোগান দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। এরপর মিছিলটি পার্কের মোড় সড়কে এসে উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। একইসঙ্গে তারাও উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

এরপর বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, ছাত্রলীগ কর্মী তানভীর, বায়েজিদ আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতি তদন্ত করায় শিক্ষামন্ত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিরুদ্ধে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বেরোবি উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তিনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি করে সরকারের বিভিন্ন মহলকে দোষারোপ করছেন। আমরা চাই তাকে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা হোক। তাকে জাতির উদ্দেশে ক্ষমা চাইতে হবে, নইলে রংপুর থেকে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবারই ঢাকায় বেরোবি উপাচার্যের সংবাদ সম্মেলনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেয় শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এসব অভিযোগ ও ইউজিসির এমন তদন্ত শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আশ্রয়, প্রশ্রয় ও আশকারায় হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর আশকারায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ৪৫টি অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ১০তলা ভবন ও একটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজে উপাচার্যের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসির আরেকটি সরেজমিন তদন্ত কমিটি। এর জন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে কমিটির ওই প্রতিবেদনে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ