• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

করোনায় কর্মহীন হয়ে যাচ্ছে দিনমজুরেরা

Exif_JPEG_420

Exif_JPEG_420

দিনাজপুর প্রতিনিধি।। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কঠোর হয়েছে সরকার। সারা দেশ জুড়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সব থেক বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দিনমজুরেরা। করোনা লকডাউনের ক্ষেত্রে এদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

হটাৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় দিনমজুরেরা জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন । দিনে এনে দিনে খাওয়া এসব দিনমজুর মানুষ চোখে সর্ষে ফুল দেখার মত অবস্থা তৈরি হয়েছে। লকডাউন দিন দিন যতই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ততই বাড়ছে এসব মানুষগুলোর অভাব ।

দিনাজপুর শহরের ষষ্ঠীতলায় কাজ করতে আসা রকিবুল সকাল দশটা পর্যন্ত বসে আছেন কাজের আশায়।”লকডাউন এর আগে সকাল আটটার মধ্যে কাজ হয়ে যাইতো এখন সকাল দশটা বাজে তবু কাজ নেই বসে আছি”।
তিনি আরো জানান, বিরল জুট মিলে কাজ করতাম পাট না থাকায় দুই দিন ধরে বন্ধ আছে। প্রতি সপ্তাহে পনেরশো টাকা করে কিস্তি কোন জমানো টাকা নেই, যে তা দিয়ে চলব।
একই অবস্থা বিরোধী পলাশবাড়ী থেকে থেকে আসা আজিমুলের। রাজমিস্ত্রির কাজ করেন‌।”লকডাউনের জন্য কাজ নেই গতকাল দশটায় ঘুরে চলে গেছি, আজও দশটা বেজে গেছে এখনো কাজ পাচ্ছি না। কিভাবে চলব বুঝতে পারতেছি না। গতবছর অনেকের সহযোগিতা করলেও এবার কেউ ঘুরেও তাকাচ্ছে না আমাদের দিকে। কথা থেকেও পাচ্ছিনা কোন সহযোগিতা।
দিনাজপুর শহরের হঠাৎপাড়া এলাকায় আসমা বেগম কাঁদো কাঁদো গলায় বলেন, বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি প্রতিমাসে পনেরশো টাকা করে দিতে হয় মালিকে। বড় মেয়ে কলেজে পড়ে ছেলে এবার এস এস সি পরীক্ষা দিবে। স্বামী-স্ত্রী আমরা এখানে বসে আছি কাজ পাচ্ছি না। বাইরে কাজ করতে যেতে পারতেছিনা, গাড়ি বন্ধ। সরকার যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করে যাবার ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে হয়তো ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ ও সংসার চালাতে পারব।
দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কথা হয় বাস হেলপার একরামুলের সাথে, “লকডাউনে সরকার বাস বন্ধ রাখছে। সবকিছুই চলতেছে শুধু বাস বন্ধ। এখানে কাজ করে প্রতিদিন যে টাকা পাইতাম তা দিয়ে আমার সংসার চলে। সামনে ঈদ আসতেছে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি ঈদের সময় সেমাই-চিনি কাপড় দিতে হবে মেয়েকে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে। যদি বাস না চলে কিভাবে কি করব ভাবতে পারতেছিনা। সরকারও আমাদেরকে সহযোগিতা করতেছেনা।
দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখা যায়, চা দোকানি, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, , রডমিস্ত্রি, সুপারভাইজার, হেলপার কিংবা রং মিস্ত্রিরা অধিকাংশই অস্থায়ী ও দিনের চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করেন বলে তাদের অনেকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে রয়েছে। তারা বলছেন এখন আর কেউ কোনো সহায়তাও করছে না। আগের মত কেউ কোন ত্রাণও দিচ্ছে না। এজন্য তারা চান আবার যেন স্বাভাবিক হয়ে যায় সব কিছু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ