• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন |

খানসামায় বেড়েছে জ্বর-ডায়রিয়া রোগী

এস. এম. রকি, খানসামা (দিনাজপুর)।। উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (পাকেরহাট)-এ বেড়েছে জ্বর, শ্বাষকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও জনবল সংকটে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে যখন পুরো পৃথিবী থমকে গেছে আর দেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ঠিকমত সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিক তখনও সীমিত জনবল ও বারদ্দ দিয়ে করোনা ঝুঁকি নিয়েই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক,নার্স-মিডওয়াইফ,স্যাকমো,ওয়ার্ড বয়,আয়া ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, মার্চের শুরু থেকে জ্বর-ডায়রিয়া রোগী বাড়লেও এখন প্রতিদিন হাসপাতালের ইনডোরে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৬৫-৭০ জন। নিয়মিত ২৫-৩০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হচ্ছে এবং ২০-২৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। এর অধিকাংশ জ্বর,শ^াসকষ্ট ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। এদিকে জরুরী বিভাগ ও আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় ৬৫০-৭০০ রোগী চিকিৎসা সেবা নেয়। যা পুরো রংপুর বিভাগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। অপরদিকে গত এক সপ্তাহে যমজ বাচ্চাসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের সংখ্যা ১৫ জন। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে ঘরে থেকেই যেকোনো চিকিৎসা নিতে জনগণের আগ্রহ বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

যার ফলে স্বাস্থ্য সেবার মানের দিক বিবেচনায় গত বছর বিভাগের মধ্যে ও কয়েকবার জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয় খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ইনডোরে করোনা আইসোলেশন ইউনিট, নারী ওয়ার্ড, প্রসূতি ওয়ার্ড ও পুরুষ ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডেই রোগী। বেডে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে ও বারান্দায় থেকেও সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। এতে রোগীর সংখ্যা বেশী হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালের স্টাফরা। অপরদিকে জরুরী বিভাগ, আউডডোরে, এএনসি,কেএমসি ও পিএনসি সেবা এবং আইএমসিআই কর্ণারে প্রতিদিন সেবা নিচ্ছে ৬-৭শ রোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু নামেই ৫০ শয্যার এখনও প্রশাসনিক কোন অনুমোদন মেলেনি আবার পূর্বের ৩১ শয্যারও জনবল সংকট আছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা ০৬ জন, নার্স-মিডওয়াইফের সংখ্যা জন ও বিভিন্ন পদে জন। যেখানে এই হাসপাতালে শূন্য পদের সংখ্যা চিকিৎসক পদে ৯টি,নাসর্-মিডওয়াইফ পদে ৫টি, ৩য় শ্রেণীর ২০ টি পদ এবং চতুর্থ শ্রেণীর ৫ টি পদ।

হাসাপাতালে সেবা নিতে আসা শিমুলতলী এলাকার লিটন ইসলাম বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা ও কাশি নিয়ে হাসপাতালে আসছি। এখানে ডাক্তার দেখালাম। জ্বর,প্রেসার এবং ওজন মেপে ওষুধ দিল। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের সেবার মান ভালো কিন্তু ডাক্তার কম হওয়ায় সেবা নিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয় যা ভোগান্তিকর।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা.শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন, জনবল ও বরাদ্দ সংকটের মধ্যেও করোনা ঝুঁকি নিয়েই এক ঝাঁক উদ্যমী ও কর্মঠ স্বাস্থ্যকর্মী রোগীদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বিরামহীন ভাবে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো: মিজানুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিরলসভাবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল ও বরাদ্দ সংকট কমলে এবং ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন পেলে স্বাস্থ্য সেবার মান আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি হবে। এজন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ অব্যাহত আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ