• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন |

কিশোরগঞ্জে বালু লুটের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নীলফামারী প্রতিনিধি ।। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ইজারা ছাড়াই ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরকারীভাবে নদী খননের বালু লুটের দায়ে আলমগীর হোসেন (৪০) নামের এক বালু ব্যবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের ষ্টিল ব্রীজের উত্তর পাশে চারালকাঁটা নদীর তীরে সোমবার (১৪ জুন) গভীর রাতে এই জরিমানা করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক রোকসানা বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, দিনরাত সমানভাবে বালু লুটের ফলে সরকার একদিকে যেমন কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে, অপর দিকে বালুবোঝাই দশচাকার ট্রাক এবং মাহিন্দ্র ট্রাক্টর সড়ক দিয়ে চলার কারনে গ্রামীন সড়কগুলো ভেঙ্গে একাকার হয়ে যাচ্ছে। বালু লুটের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা প্রশাসন একে অপরের উপর দায়ভার চাপিয়ে এড়িয়ে চলছেন।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সুত্রে জানা গেছে, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ৬৪ জেলায় নদী ও খালবিল খনন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চাঁড়াল কাঁটা নদী খননের জন্য ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। নদী খননের ঠিকাদার নদী খনন করে তীর সংলগ্ন ৮৫ স্থানে ওইসব বালু স্তুপ করে রাখে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুটিমারী ইউনিয়নের সালটিবাড়ি, কালিকাপুর, পুর্ব কালিকাপুর, নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর, বেলতলি, কালুরঘাট ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা, বাহাগিলি ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট, বাহাগিলি ষ্টিল ব্রীজের পাশ থেকে দিনে এবং রাতে ইজারা ছাড়াই বালু ব্যবসায়ীরা সমানভাবে দশচাকার জ্যাম ট্রাকে এবং মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে করে বালু লুট করে বিক্রি করছেন।
একই উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের বাসিন্দা এজাজুল মিয়া, আলতাফ হোসেনসহ অনেকে জানান, কালুরঘাট ব্রীজের দুই দিকে এবং নিতাই বাড়ি মধুপুর স্কুলের মাঠের চার থেকে পাঁচটি বালুর স্তুপ ছিল। বালু ব্যবসায়ীরা সমস্ত বালু দিনে এবং রাতের বেলা লুট করে নিয়ে গেছে।
পুটিমারী ইউনিয়নের শালটিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রেয়াজুল, ছকমাল হোসেন বলেন, শালটিবাড়ি কালিকাপুর এবং পুর্ব কালিকাপুরের দশ থেকে ১৫ টি স্তুপ শেষ হয়ে গেছে।
বাহাগিলি ষ্টীল ব্রীজ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল হক জানান, ব্রীজের উত্তর দিক থেকে দশচাকার জ্যাম ট্রাক এবং মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে করে বালু নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাখারুল ইসলাম বলেন, গত ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর নীলফামারী পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিন্ধান্ত মোতাবেক বালু নিলামের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। এর বেশি আমাদের করার কি আছে? আমরাতো বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে পারি না। এটা উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা বেগম বলেন, পত্রিকায় বিঙ্গপ্তি প্রকাশের পর ৬টি লট সরকার নির্ধারিত মুল্য অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে প্রায় ২৯ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে বালু লুটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোমবার রাতে আলমগীর হোসেন নামে এক বালু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সরকারী বালু লুট করার সময় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রাতের বেলা বালু লুট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতের বেলা বালু লুট করলে আমাদের করার কিছু নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ