।। এস এম জামান ।। এবারে নীলফামারীতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি পাট বীজ বপনের সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট চাষীদের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এরফলে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষি বিভাগ ব্যর্থ হয়েছে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে। ফলে এবারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাট চাষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। তবে জেলায় গত বছরের তুলনায় ২৬৫ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, জেলায় এবারে দেশি ও তোষা জাতের পাটের চাষাবাদ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমির পাট কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকী পাট কর্তন সম্পন্ন হবে। এখন চলছে পাটজাগ ও আঁশ ছড়ানোর কাজ। কৃষি বিভাগের হিসেব অনুযায়ী, প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ২ দশমিক ১২ মেট্রিক টন।
নীলফামারী সদরের সংগলশী ইউনিয়নের কাদিখোল গ্রামের পাট চাষী মহির আলী জানান, এবারে বীজ বপনের সময় বৃষ্টিপাত হয়নি। এতে জমিতে পাটের বীজ তেমন গজায়নি। যেটুকু পাট হয়েছে, তা কেটে পানির অভাবে জাগ দিতে দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। ডোবায় পাটজাগ দিলে পাটের রং নষ্ট হয়। ফলে ভালো দাম পাওয়া যায়না। এসব কারনে গ্রামে অনেকেই এখন পাট চাষের পরিবর্তে অন্য ফসলের চাষাবাদ করছে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাট কম চাষ হলেও ফলন ভালো হয়েছে। এবারে জেলায় অনাবৃষ্টির কারনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে বাজারে পাটের দাম ভালো হয়েছে। প্রতি মণ তোষা পাট বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকায়। এছাড়া পাটখড়ির প্রচুর চাহিদা রয়েছে বাজারে। কৃষকরা তা বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাবে।