
সিসি নিউজ: স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকা যাবে না। হলে থাকতে হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রত্যয়নপত্র লাগবে। যারা প্রত্যয়নপত্র আনতে পারবে না তাদের হলে থাকতে দেয়া হবে না। এমনই ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে। হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক দিদার স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্যাডে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসার জন্য নতুন ভর্তি হওয়া প্রায় শতাধিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনি অভিযোগ আছে আরো কয়েকটি হলের ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।
এসএম হল সূত্র জানায়, সোমবার রাত ১২টার দিকে নতুন এসব শিক্ষার্থীকে বের করে দেন তিনি। এ সময় ছাত্রদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কর্মী প্রমাণ করতে না পারলে তাদের আর হলে ঢুকতে দেয়া হবে না।
জানা যায়, ১০ তারিখ রাত ১০টার দিকে হলের সাধারণ সম্পাদক দিদার হলে ওঠা নতুন প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে হলের সামনে সংগঠনের শুভেচ্ছা দিতে দাঁড় করান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ছাত্রদল বা শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং কলেজে থাকতে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। ছাত্রদল বা শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের মেরে হল থেকে বের করে দেয়া হবে বলেও তিনি বলেন। এতে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে যায়। পরে দিদার তাদের আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্যাডে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং প্রত্যয়নপত্রের একপাশে ওই নেতার মোবাইল ফোন নম্বরও লিখে আনতে বলেন। তিনি আরো হুমকি দেন নীলক্ষেত থেকে যদি কেউ এ প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসে তবে মেরে তাদের পিঠের চামড়া তুলে দেয়া হবে। অনেক শিক্ষার্থী শুধু রাতটুকু থাকতে চাইলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের কথা না শুনে রাত সাড়ে ১১টার দিকেই হল থেকে বের করে দেন। ফলে ঢাকা শহরে নতুন এসেছেন এমন অনেক শিক্ষার্থীই বিপাকে পড়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হল গেটে দায়িত্বরত এক কর্মচারী বলেন, রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থীদের তাদের আসবাবপত্র নিয়ে হল থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন এসব শিক্ষার্থীর অনেকের ক্লাস শুরু হয়েছে। কোথাও থাকার জায়গা না পেয়ে তারা মসজিদে গিয়ে থেকেছেন। এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ সভাপতি শাকিল ও সেক্রেটারি ইয়াজ তাদের হলে শিবির, ছাত্রদল করার অভিযোগে বগুড়া, জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা জেলার কোনো শিক্ষার্থীকে হলে উঠতে দেন না। এতে করে ওই হলের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।
ছাত্রলীগের এমন আচরণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরমভাবে হতাশ হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর ওপর এমন অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়া থেকে আসা এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হলে ওঠার প্রথম দিনেই এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হবো তা বুঝতে পারিনি। এতদিন পত্র-পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদ শুনেছি। এখন নিজেই এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজামুল হক দিদার বলেন, হলে সিট সংকটের কারণে একসঙ্গে সব শিক্ষার্থীকে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমরা যাচাই-বাছাই করে চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে নতুন শিক্ষার্থীদের হলে তোলার কথা বলেছি। প্রত্যয়নপত্রের ব্যাপারে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির চক্র কোনোভাবেই যেন হলে ওঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে এজন্যই স্থানীয় আওয়ামী লীগ অথবা ছাত্রলীগের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে বলেছি। যাতে তারা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সুযোগ-সুবিধা পায়।
হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ মাহাবুবুল আলম জোয়ার্দ্দার বলেন, রাতে বিষয়টি আমি শুনেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী বলেন, আবাসন সংকটের কারণে এমনিতেই ঢাবিতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার কোনো সুযোগ নেই। তাই তারা যে কোনোভাবে হলে উঠতে যায়। সেক্ষেত্রে ছাত্রনেতারা যদি তাদের কাছে কোনো কিছু চেয়ে থাকে সেটা আমার জানা নেই। উল্লেখ্য, নিজামুল হক দিদারের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। গত কয়েকদিন আগেও শাহবাগে মদ নিয়ে বার কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাকে সতর্কবাণী দেয়া হয়েছে।