• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে মরিচের দাম চড়া: চাষীদের মুখে হাসি নেই

।। এস এম জামান ।। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জমিতে মরে যাচ্ছে মরিচের গাছ। অনেক মরিচ ক্ষেতে শুধু গাছ রয়েছে কিন্তু নেই ফলন। ৬০ শতক জমিতে লাগানো মরিচ ক্ষেত থেকে দুইদিন পর মাত্র ৩ কেজি মরিচ সংগ্রহ করেছে চাষীরা। এ অবস্থায় বাজারে মরিচের দাম বেশি হলেও নীলফামারীর মরিচ চাষীদের মুখে হাসি নেই।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, এবারে জেলায় গ্রীষ্মকালীণ মরিচ চাষাবাদ হয়েছে ৫৫৫ হেক্টর জমিতে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২০ হেক্টর। জেলার মধ্যে মসলা জাতীয় এ ফসলটির চাষাবাদ বেশি হয় নীলফামারী সদর, জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলায়। যে জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না এবং বর্ষায় পানি উঠে না- এমন জমিতে মরিচ চাষের জন্য পরামর্শ দেয়া হয় মরিচ চাষীদের।

জেলার ডিমলা ও সৈয়দপুর পাইকারী বাজারের মরিচ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১০/১২ দিন পূর্বে প্রতি মন মরিচ ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৪০০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে প্রতি মন মরিচ ৪ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪০০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। যা খুচরা বাজারে সবোর্চ্চ প্রতি মন ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ার মরিচ চাষী একরামুল হক জানান, ক্ষেত থেকে যেসময় প্রচুর মরিচ সংগ্রহ করেছি সেসময় বাজারে মরিচের দাম নেই। আর এখন বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই ক্ষেতের মরিচের গাছ মরে গেছে, তখন বাজারে মরিচের দাম চড়া। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছি না।

সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর কুঠিরপাড়ের কৃষক উকিল উদ্দিন জানান, মরিচের গাছ হলুদ রং ধারণ করে মরে যাচ্ছে। তিনি গত দুইদিন পর ৬০ শতক জমি থেকে মাত্র ৩ কেজি মরচ সংগ্রহ করেছেন। যা বাজারে গিয়ে ৩৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন। ওই জমি থেকে আর মরিচ পাওয়া যাবেনা বলে নিশ্চিত করেছেন।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এ অঞ্চলে গত কয়েকদিন থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মরিচ ক্ষেতের জন্য এটি যথেষ্ট ক্ষতিকর। মরিচ গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে গাছটি দ্রুত মরে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গ্রীষ্মকালীণ মরিচের চাষাবাদ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও চাষীরা মরিচের বাজারমূল্য পায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ