সিসি নিউজ ।। নীলফামারীতে ব্রয়লার, সোনালী এবং দেশী জাতের মুরগীর দাম বেড়েছে। পাইকারী বাজারে ব্রয়লার জাতের মুরগীর আমদানি শুন্যের কোটায় নেমেছে। বেড়েছে দেশী ও সোনালী জাতের মুরগীর দাম। গ্রামের বাজারে প্রতি কেজি সোনালী মুরগী ৩২০ ও দেশী মুরগী ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
করোনার প্রভাবে লোকসানে পড়ে প্রায় অর্ধেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে বাজারে মুরগীর খাবারের দাম বাড়ায় এবং লকডাউন উঠে যাওয়ায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মুরগির চাহিদা বাড়ায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
নীলফামারী জেলার বিভিন্ন বাজারের খবর নিয়ে জানা গেছে, শনিবার ব্রয়লার মুরগী খুচরা পর্যায়ে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, সোনালী মুরগী ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় এবং দেশী মুরগী ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত তিন দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মুরগীতে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
চিলাহাটি বাজারে মুরগী ক্রেতা সুমন ইসলাম প্রামানিক জানান, বাজারে ব্রয়লার মুরগীর আমদানি একেবারেই কম। সোনালী জাতের মুরগীর আমদানি বেশ ভালোই রয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে এ জাতের মুরগী প্রতি কেজি ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে সোনালী মুরগী বিক্রি হচ্ছে। এতে সংসারে সাপ্তাহিক বাজারে প্রভাব পড়েছে। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অন্যান্য সবজি কম কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
নীলফামারী সদরের ফকিরগঞ্জ বাজারে সোনালী মুরগী ৩২০ টাকা দরে বিক্রি করছে খুচরা মুরগী বিক্রেতারা। এ বাজারের বিক্রেতা আমজাদ হোসেন জানান, পাইকারী বাজারে সোনালী মুরগী ২৭০ থেকে ৮০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। এরপর মুরগীর খাবারের দাম বেশি এবং পরিবহন ও দোকান ভাড়ার হিসেব কষে প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর পৌর মার্কেটের পাইকারী ব্যবসায়ী কাজী মতিয়ার রহমান জানান, লকডাউন খুলে দেওয়ায় বাজারে মুরগীর চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের অর্ডারও শুরু হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই গত এক মাস থেকে বাড়তে শুরু করেছে মুরগীর দাম। এ সময়ের মধ্যে মুরগীর দাম প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে আরো দাম বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।
মোবাশ্বিরা এগ্রো ফার্মের মালিক মমিনুর আজাদ জানান, গত এক মাসে মুরগীর খাবার প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে মুরগীর বাচ্চা ও ওষুধের দাম সমান তালে বৃদ্ধি বেড়েছে। করোনা কালীন সময়ে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের আর সম্ভাবনা নেই। কারণ সে সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া খামারের মালিকরা পূর্নরায় খামার চালু করার পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে। সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করলে খামারীরা নতুন উদ্যোমে এ ব্যবসায় ফিরে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
নীলফামারী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী জানান, করোনার সময়ে লোকসানে পড়ে কিছু খামার বন্ধ রয়েছে। জেলায় বর্তমানে প্রায় ১০০০ ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালী জাতের মুরগির খামার চালু আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, করোনাকালীন সময়ে সরকারের পক্ষ্য থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মুরগীর খামারীদের নিজ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে প্ররোদনার অর্থ প্রদান করা হয়েছে।