সিসি নিউজ ।। উজানে ভারী বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে নীলফামারীর ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তোড়ে ফ্লাড বাইপাস সড়ক ভেঙ্গে গেছে। এতে ডিমলা-হাতিবান্ধার মধ্যে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সকালের দিকে বাঁধের উজান ও ভাটির দিকে তিনটি চরের স্পার বাঁধ বিলীন হয়েছে।
পানি উন্নয়ণ বোর্ড কর্তৃপক্ষ তিস্তা পাড়ে রেড এলার্ট জারি করেছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়।
আজ বুধবার বেলা ২টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমান ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে দুপুরের দিকে পানির তোড়ে তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাস ভেঙ্গে যায়। এতে লালমনিরহাট এলাকায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। নীলফামারী এলাকার চরাঞ্চলের তিনটি স্পার বাঁধ বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে বলে পাউবো ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, তিস্তা নদীর উভয় তীরের বাঁধে কোনো সমস্যা হয়নি। কালিগঞ্জের গ্রোয়েন বাঁধের প্রায় দুইশত মিটার ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ১০০ পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তায় বিলীন হয়েছে। নতুন করে ১ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে।
খালিশা চাঁপানী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, কার্তিক মাসের এমন হঠাৎ বন্যা এলাকাবাসীকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। তিস্তা চরের গ্রামগুলো এখন নদীতে পরিণত হয়েছে। আমনের ক্ষেতগুলো পলিতে নিমজ্জিত থাকবে এটা নিশ্চিত।
পাউবোর ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, সন্ধ্যা নাগাদ পানি প্রবাহ কমতে পারে। ১০ বছর পর ব্যারেজের ফ্লাড বাইবাসটি পানির চাপে খুলে গেলো। এতো বছরের মধ্যে ডালিয়া পয়েন্টে এটি সবোর্চ্চ পানি প্রবাহ বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য যে, নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা নদীর অববাহিকায় ২২টি চর গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক পরিবার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ্য থেকে পানিবন্দিদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।