• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন |

দুই সতীনের ভোটযুদ্ধ

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। কুড়িগ্রামে দুই সতীনের ভোটযুদ্ধে জমে উঠেছে তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচন। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে দুই সতীনসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিপাকে পড়েছেন ভোটাররা। এমন চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন নির্বাচনে।

উপজেলার চন্দ্রখানা বুদারবান্নি গ্রামের ফজলু কসাইয়ের তিন স্ত্রীর মধ্যে এবারের ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন দুজন। বড় স্ত্রী আঙ্গুর বেগম কলম প্রতীক আর ছোটজন জাহানারা বেগম তাল গাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্বামী বড় স্ত্রীকে সমর্থন দেয়ায় মেঝো স্ত্রী নাজমা বেগমও তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। এদিকে স্বামীর সমর্থন না পেলেও ছোট স্ত্রী জাহানারা বেগম নির্বাচন থেকে সরে যাননি। ফলে ঘরের লড়াই নেমেছে মাঠে।

দুই সতীন ভোটযুদ্ধে নামায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। হাটবাজার কিংবা চায়ের দোকান সর্বত্রই ভোটারদের মুখে মুখে দুই সতীনের লড়াই। ফলে ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ পর্যন্ত দুই সতীনের ভোটের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের অপেক্ষার প্রহর গুণছেন ভোটাররা।

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আঙ্গুর বেগম ও জাহানারা বেগম। বড় স্ত্রীর পক্ষে স্বামী ফজলু কসাই এবং মেঝো স্ত্রী (প্রার্থীর সতীন) নাজমা বেগম আঙ্গুর বেগম ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন।

আঙ্গুর বেগম বলেন, গত ইউপি ভোটে আমার সতীন হেরে যাওয়ায় এবারের নির্বাচনে স্বামী এবং ভোটারের সর্মথন নিয়ে ভোটে অংশ নিয়েছি।

আরেক প্রার্থী জাহানারা বেগম বলেন, গত চার/পাঁচ বছর ধরে ভোটের জন্য কাজ করে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় পুনরায় তিনি অংশ নেন। তবে স্বামীর সমর্থন না পেলেও ভোটারের উপর আস্থা আছে তার।

ফজলু মিয়া বলেন, জাহানারা বেগম গত ইউপি নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় এবারের নির্বাচনে জনগণ তার প্রথম স্ত্রী আঙ্গুর বেগমকে সর্মথন দিয়েছেন। এজন্য তিনিও তার পক্ষে কাজ করছেন।

ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একই পরিবারের দুজনসহ পাঁচজন মহিলা মেম্বার ভোটে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৭, ৮ নম্বরে কোনো প্রার্থী নেই। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দুই সতীনসহ পাঁচজন প্রার্থী। দুই সতীন দাঁড়ানোর ঘটনা হাস্যকর পরিস্থিতি হয়েছে। আর এই কারণে ভোটাররাও বিপাকে পড়েছেন।

চলতি মাসের ১২ নভেম্বর শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে কলম মার্কা আঙ্গুর বেগম, তালগাছ মার্কা জাহানারা বেগম, মাইক মার্কা নুরী বেগম, সূর্যমুখী ফুল মার্কা আঞ্জুমান আরা বেগম এবং অপরজন আঙ্গুর বেগম বক মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রতীক পাওয়ার পর থেকে অন্যান্য প্রার্থীর মতই মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে দুই সতীন। উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সমর্থক, ভোটারদের মাঝে প্রশ্ন জেগেছে দুই সতীনের মধ্যে একজন নাকি অন্য কোনো প্রার্থী হাসবে বিজয়ের হাসি? এই প্রশ্নের অবসান ঘটবে আগামী ২৮ নভেম্বর ভোটের দিন ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ