
।। রুবেল পারভেজ ।। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিস্তীর্ন ফসলের মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ছেঁয়ে গেছে। দেখে মনে হবে কেউ যেন বিস্তীর্ন মাঠজুড়ে হলুদ গাঁদা ফুলের বাগান তৈরি করেছে। শীতের মৌসুমে সরিষা চাষ এবার বেশি হয়েছে এ উপজেলায়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই সরিষা চাষ হয় বলেই চাষিরা সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী। খুব একটা সার বা সেচ লাগেনা স্বল্প পুঁজিতেই বেশি লাভজনক হওয়ায় এ বছর সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে।
আমন ধান কাটার পর জমি চাষ করে এই সরিষার চাষ করা হয়। আবার সরিষা কাটার পর সেই জমিতেই ইরি-বোরো আবাদ করা হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৭৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৬০হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ বেশি হয়েছে।একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলাতে কৃষিতে সকল ফসলের প্রণোদনার অংশ হিসেবে সরিষা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তৃর্ন মাঠ সষিরার হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। আর মৌমাছিরাও সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কম খরচ আর লাভ বেশির আশায় এবার সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষক। গত কয়েক বছরে এই এলাকার চাষিরা মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে স্বল্প পরিসরে সরিষা চাষ করলেও ব্যাপক লাভবান হওয়ায় এবার সরিষা চাষ বেশি হচ্ছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের সরিষা চাষি অধ্যক্ষ সুলতান আহমেদ বলেন, এ বছর ১৫ একর জমিতে সরিষার চাষ করেছি। আমন এবং বোরো চাষের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ করলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। পরের ফসলের জন্য খুব বেশি চাষ করতে হয় না। জৈব সারও দিতে হয় না। অন্যদিকে কম খরচে মাত্র দুটি চাষ দিয়েই সরিষা চাষ করা যায়। সরিষা আবাদে কোনো প্রকার সেচ লাগে না। সার ও কীটনাশকও প্রয়োগ করতে হয় না।কম খরচে বেশি লাভ ও স্বল্প সময়ে সরিষার ফসল ঘরে তোলা যায় বলে একটি জমিতে তিনবার আবাদ করা যায়।এ কারণেই দিন দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে।
খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহল পাড়া গ্রামের মনসুর আলী জানায়, এক একর জমিতে সরিষা আবাদ করতে খরচ হয় মাত্র ১০ হাজার টাকা। প্রতি একরে ১২ মণ সরিষা উৎপাদন হয়। বাজারে আড়াই-তিন হাজার টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হয়। ফলে খরচের দ্বিগুণ লাভ হয় চাষিদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেকেন্দার আলী বলেন, উপজেলার কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে সরিষা বীজ প্রদান, বিভিন্ন গ্রামে ক্ষেত পরিদর্শনসহ ভালো ফলন পেতে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।এবছর তেল ও খৈলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষীরা অধিক পরিমান জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে রয়েছে বারি সরিষা-১৪ ও ১৫ জাত। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন এবং বাজার দরে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করছি।