• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

নওগাঁর স্কুলে ‘হিজাব বিতর্কের ঘটনাটি সত্য নয়! সাম্প্রদায়িক উস্কানি

নওগাঁ প্রতিনিধি ।। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হিজাব না পরায় হিন্দু শিক্ষিকার বিরুদ্ধে
মারধর অভিযোগ উঠলেও শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে দুই জন শিক্ষক। হিজাব বিতর্কের ঘটনাটি সত্য নয়! সাম্প্রদায়িক উস্কানি।
বুধবার শিক্ষার্থীরা স্কুল ড্রেস পরে না আসায় দুই শিক্ষক বেত্রাঘাত করলেও শুধু মাত্র আমোদিনি পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে অনেকটা পরিকল্পিত ভাবে বলে দাবী করেছে ওই শিক্ষিকা।
ভাইরাল হওয়া বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানেও এর সত্যতা মিলেছে। এলাকার লোকজন এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই বর্তমান প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণের সঙ্গে আমোদিনি পালের বিরোধকেই এর মূল কারন হিসেবে মনে করছে। তবে ঘটনাচক্রে গত বুধবার স্কুলে ছিলেন না ধরণী কান্ত।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার একটি স্কুলে হিজাব পরার কারণে কমপক্ষে ২০ ছাত্রীকে মারধরের তথ্য প্রকাশ করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজনের বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টির সত্যতা জানতে শুক্রবার বারবাকপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে স্কুলটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এলাকাবাসী এবং প্রশাসনের বক্তব্য নিয়ে জানা যায়, হিজাবের কারণে কাউকে সেদিন মারা হয়নি। স্কুলের নির্ধারিত পোশাক না পরার কারণে দুই শিক্ষক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করেন। তাদের মধ্যে হিন্দু ছাত্রী ও ছেলে শিক্ষার্থীও ছিল। এছাড়া মেয়েদের বেত্রাঘাত করেন আমোদিনি পাল, আর ছেলেদের একই শাস্তি দেন বদিউল আলম। তবে কেবল আমোদিনি পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভাইরাল হয়।
আল মোক্তাদির নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি শুরু থেকে ছিলাম, জাতীয় সংগীতের সময় স্কুলের ড্রেস না পরা কিছু ছেলেমেয়ে ছিল, তাদের মারছিল। বদিউল স্যার আগে ছেলেদের মারে। এক সপ্তাহ আগে বদিউল স্যার স্কুলড্রেস পরে আসতে হবে বলছিল। মেয়েদেরকেও তা বলা হইছে। হিজাবের জন্য কাউকে মারা হয়নি।
দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী দীপা ও কাকলী রানী পাল জানায়, ওই দিন ইউনিফর্ম ঠিকমতো পরে না আসায় আমোদিনী পাল ও বদিউল আলম তাদের অনেকে শাসন করেন। কিছু মারধরও করেন। তবে হিজাব নিয়ে টানাহেঁচড়ার মতো ঘটনা ঘটেনি।
প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনি পাল স্বীকার করেছেন। তার অভিযোগ, বর্তমান প্রধান শিক্ষক নিয়োগসহ অনেকগুলো খাতে দুর্নীতি করেছেন। আগামী ১০ মে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আমোদিনি পালের ওই পদে যাওয়ার কথা। তিনি প্রধান শিক্ষক হয়ে ধরণী কান্ত বর্মণের দুর্নীতির হিসাব যাতে না চাইতে পারেন সে কারণেই এমন ষড়যন্ত্র হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সেদিন কেবল স্কুলড্রেস ঠিকমতো পরে না আসার কারণে কিছু ছেলেমেয়েকে শাসন করা হয়েছিল। হিজাব নিয়ে কিছুই হয়নি।’
 প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণ বলেন, ওনার (আমোদিনি পাল) সঙ্গে তো আমার বিরোধ নাই, কারণ তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক, আমার পর তো উনিই হেড মাস্টার হবে। এটা তো আইন হিসেবেই পাবে। এটা নিয়ে তো আমার কিছু নাই। বুধবার আমি স্কুলে ছিলাম না। সেজন্য এ বিষয়ে কিছু জানি না।
মহাদেবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্কুলে ইউনিফর্ম না পরার কারণে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে মারধর করা হয়েছে। তবে হিজাব পরার কারণে কাউকে শাসন করা হয়নি। তবুও আমরা ঘটনাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ