নিউজ ডেস্ক: স্প্যানিশ নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন। এটা সবারই জানা। এতদিন ধরে ইতিহাস কিংবা বইয়ের পাতা সেটাই বলে এসেছে। কিন্তু ৬০০ বছরের প্রাচীন কোন চীনা মানচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক তথ্য নিয়ে সামনে উপস্থিত হয়েছে। এই মানচিত্র বলছে ক্রিস্টোফার কলম্বাস ‘নতুন বিশ্ব’ বা new world এর আবিষ্কারক নন!
লেখক গ্যাভিন মেনজেস দু সপ্তাহ আগে প্রকাশিত তার নতুন বই “Who Discovered America? তে লিখেছেন, “উত্তর আমেরিকাতে যারা বাইরে থেকে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছিল, তাদের ইতিহাস আসলে আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল।“ ৭৬ বছর বয়সী মেনজেসের মতে, ‘কলম্বাস আমেরিকা বা নিউ ওয়ার্ল্ড আবিষ্কার করেছিলেন”-এটা একটা অলীক কল্পনা কিংবা রূপকথা ছাড়া আর কিছু নয়।
সবাই আসলে ইতিহাসে যা বলা হয়, সেটাকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেন না। মেনজেসেকে অনেক সময় ছদ্ম-ইতিহাসবিদ ( pseudo-historian) বলে অনেকে সমালোচনা করেন, যাদের বিশ্বাস মেনজেসের কথাবার্তা কিংবা গবেষণা বাগাড়ম্বরপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। কিন্তু মেনজেস বলেছেন, তিনি ঠিক সেই বিষয়েই আলোকপাত করেছেন, যেটি আমাদের জানাবে যে, কখন ও কিভাবে উত্তর আমেরিকা প্রথম আবিষ্কৃত হয়।
তবে সমালোচনা থাকলেও মেনজেসের সমর্থকও কম নয়। তার এর আগের বইটি সর্বাধিক বিক্রিত ছিল। তার প্রদত্ত তত্ত্বগুলোর পক্ষের মানুষজন তার গবেষণার জন্য প্রচুর অর্থ অনুদান হিসেবে দিয়েছে, যার ফলে মেনজেস তার ঐতিহাসিক অনুসন্ধান কাজে আরও অনেক বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করতে সক্ষম হন। মেনজেস জানান, একটি বইয়ের দোকান থেকে ১৮ শতকের একটি প্রাচীন চীনা মানচিত্র পাওয়া যায়। এটি ছিল চীনা এডমিরাল ঝেং হি এর। অবাক করার ব্যপার হচ্ছে, এতে আমেরিকার বিস্তারিত মানচিত্র অঙ্কিত আছে, যার সময়কাল ১৪১৮সাল! আর এই ঘটনা কলম্বাসের আমেরিকা অভিযানেরও ৭০ বছর আগে! মেনজেসের মতে, কলম্বাস আসলে নিজে আমেরিকা আবিষ্কারই করেন নি, তার কাছে ছিল ঝেং হি’র মানচিত্রের একটি অনুলিপি বা কপি! সেটা দেখে দেখেই তিনি আমেরিকা গিয়েছিলেন!
চীনের ইতিহাসে ঝেং হি’কে সবচেয়ে বিখ্যাত অভিযাত্রী হিসেবে ধরা হয়। চীন সম্রাটের নির্দেশে তিনি বিস্তৃত সমুদ্রে চীনা জাহাজ ভাসান যাতে তিনি নতুন নতুন স্থান আবিষ্কার করে সম্রাটকে পৃথিবীর বিভিন্ন খবর জানাতে পারেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অচেনা স্থানগুলো সম্পর্কে। এশিয়ার সংস্কৃতির উপর তার প্রভাব এতোটাই বেশি যে, ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে ঝেং হি’কে ঈশ্বর বলে সম্মান করা হয়। মেনজেস বলেন, এই মানচিত্রে বেশ কিছু স্থানের বর্ণনা , কিছু এলাকার সম্প্রদায় ও পেরুর কিছু সাংস্কৃতিক ল্যান্ডমার্কের উপস্থিতির বিষয়গুলোর সাথে সেই সময়কালের প্রাপ্ত অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শনের সাথে মিলে যায়। শুধু তাই নয়, মেনজেস তার বইতে আরও দাবি করেছেন, চীনা নাবিকরা প্রায় ৪০ হাজার বছর আগেই প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করেছিল ও এর ডিএনএ প্রমাণও রয়েছে।
বর্তমানে ধরা হয়, প্রাচীন মানুষ বেরিং প্রণালির ভেতর দিয়ে এক বিশাল স্থল-সেতুর মাধ্যমে এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকাতে গিয়েছিল। মেনজেসের সমালোচনাকারীরা তার ইতিহাসের উপর কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকায় তার গবেষণার ফলাফলকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু ডেইলি মেইল-এর বক্তব্য, মেনজেসের এই সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার পর তাকে আর অপেশাদার ইতিহাসবিদ বলা যাচ্ছে না!