সিসি নিউজ ।। গরমের সঙ্গে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিক্রি বেড়েছে ফ্যান বা বৈদ্যুতিক পাখার। বেড়েছে সব ধরনের ফ্যানের দামও। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ফ্যান ভেদে দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানগুলোতে সিলিং, টেবিল, স্ট্যান্ড ও চার্জার এ চার ধরনের ফ্যানই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
সম্প্রতি লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় চার্জার ফ্যানের চাহিদা বেশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। ব্যবসায়ীদের দাবি চাহিদার তুলনায় সরবারাহ কম, উচ্চ আমদানি শুল্ক ও আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ বছর ফ্যানের দাম কিছুটা বেড়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ- সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, জনবল সংকটের কারণে সবদিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয়না। তবে খুব শিগগিরি ইলেকট্রনিক্স দোকানকগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেসব দোকানদার অতিরিক্ত দাম নিবেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে অন্যান্য পণ্যের তুলনায় বেশি বিক্রি হচ্ছে ফ্যান। অধিকাংশ দোকানেই সব ধরণের ফ্যান প্রায় শেষ। যেকোনো ব্র্যান্ডের টেবিল ফ্যানের দাম ন্যুনতম দেড় হাজার টাকা। আর প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর টেবিল ফ্যান কিনতে হলে খরচ করতে হবে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। বাজারে বিক্রি বেড়েছে বড় স্ট্যান্ড ফ্যানেরও। এ ধরনের ফ্যান মূলত অনুষ্ঠানগুলোর জন্য ডেকোরেশন দোকানদাররা কেনেন। ক্রেতাদের মধ্যে স্টান্ড ফ্যানের চাহিদা বেশি। ২০ ও ২৪ ইঞ্চি এসব ফ্যানের দাম সাড়ে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। চায়না ১৮ ইঞ্চি স্ট্যান্ড ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে তিন হাজার টাকার মধ্যে। আর দেশীয় কোম্পানির স্ট্যান্ড ফ্যানের দাম সাড়ে তিন হাজার টাকা।
বিক্রয়কর্মীরা জানান, ৪৮ ও ৫৬ ইঞ্চির ফ্যানই বেশি বিক্রি হচ্ছে। দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা দামের বিভিন্ন কম্পানির সিলিং ফ্যানের চাহিদা বেশি বলে তিনি জানান। বাজারে এবারও চার্জার ফ্যানের বেশ চাহিদা রয়েছে। বেশির ভাগ চার্জার ফ্যানে লাইট সংযুক্ত করা আছে। বিভিন্ন কম্পানির লাইটসহ চার্জার ফ্যান বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। চার্জার ফ্যানের কারণে টেবিল ফ্যানের বিক্রি কমেছে বলে জানান খুচরা বিক্রেতারা।
শেরে বাংলা সড়কস্থ জামিল ইলেকট্রনিক্স দোকানে ফ্যান কিনতে আসা মিথিলা নামের এক ক্রেতা জানান, দোকানিরা নানা অজুহাতে ফ্যানসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পন্যের দাম বাড়িয়েছেন। এক মাস আগেই একটি ফ্যান নিয়ে গেছি এক হাজার ৮০০ টাকায়। অন্য ঘরের জন্য একই ফ্যান কিনতে এসেছি। কিন্তু এখন দাম চাচ্ছে দুই হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, চাহিদার চেয়ে সরবারাহ কম। এছাড়া পরিবহনসহ আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায়, রেগুলেটরি শুল্ক এবং এলএমই প্রাইস অনেক বেশি হওয়ায় এ পণ্যের আমদানি ব্যয়ও বেড়ে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের ফ্যান দিতে পারছেন না।