• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন |

চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ

সিসি নিউজ ডেস্ক।। মফস্বল সাংবাদিকতার দিকপাল ও চারণ সাংবাদিকখ্যাত মোনাজাত উদ্দিনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৫ সালের এই দিনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য মোনাজাত ছুটে গিয়েছিলেন গাইবান্ধায়। ফুলছড়ি উপজেলায় যমুনা নদী পার হওয়ার সময় ফেরি থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্য থাকলেও তা উদ্ঘাটিত হয়নি। ২৭ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন।

মোনাজাত উদ্দিনের স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নিচ্ছে রংপুর সিটি করপোরেশন। নগরীতে ‘মোনাজাত উদ্দিন চত্বর’ স্থাপন করার জন্য রংপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। এতে সাড়াও দিয়েছেন সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা।

রংপুর সিটি প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি এস এম খলিল বাবু বলেন, মোনাজাত উদ্দিন শুধু রংপুর নয়, গোটা দেশবাসীর গর্ব। দেশবরেণ্য এই সাংবাদিকের স্মৃতি রক্ষায় সবার আগে সাংবাদিকদেরই এগিয়ে আসা উচিত।

সিটি মেয়র মোস্তফা বলেন, মোনাজাত উদ্দিন রংপুরের অহংকার। রংপুরবাসী হিসেবে তাঁর স্মৃতি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। নগরীর লালকুঠি মোড়কে ‘মোনাজাত উদ্দিন চত্বর’ করা যেতে পারে।

মোনাজাত উদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকীতে রংপুরের গঙ্গাচড়া প্রেস ক্লাব ও মরহুম আব্দুল মজিদ-মোনাজাত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, কাঙালি ভোজ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া সিটি প্রেস ক্লাব ও রংপুর প্রেস ক্লাব দিনটি পালনে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

মোনাজাতউদ্দিন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে বগুড়ার সাপ্তাহিক বুলেটিন পত্রিকার মাধ্যমে তিনি ঝুঁকে পড়েন সাংবাদিকতায়। ১৯৬২ সালে স্থানীয় সংবাদদাতা হিসেবে ঢাকার কাগজ, দৈনিক আওয়াজ এবং ১৯৬৬ সালে দৈনিক আজাদ এবং পরে দৈনিক সংবাদ (১৯৭৬) ২০ বছর উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি সংবাদ ছেড়ে জনকন্ঠ পত্রিকায় যোগদান করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জনকণ্ঠই ছিল তাঁর ঠিকানা। মোনাজাত একজন গবেষকও ছিলেন।

তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছিল গ্রামবাংলার অজানা অনেক কথা। তাঁর লেখা ১১টি গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘পথ থেকে পথে’, ‘মজিবর ও শাহ আলমের কাহিনী’, ‘কানসোনার মুখ’, ‘লক্ষ্মীটারী’, ‘অনুসন্ধানী রিপোর্ট’ ইত্যাদি। সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে ফিলিপস পুরস্কার ও ১৯৯৭ সালে (মরণোত্তর) একুশে পদক পান তিনি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ