সিসি নিউজ।। নীলফামারী তীব্র তাপদাহে রেললাইন যাতে বেঁকে না যায়, সেজন্য তদারকি বাড়ানো হয়েছে নীলফামারীতে। নাট, বল্টু, স্লিপার, ক্লিপ রক্ষণাবেক্ষনের জন্য রোদের মাঝেও কাজ করছে ওয়েম্যানরা। এর পাশাপাশি রেললাইন বেঁকে যাওয়া রোধে বালতি, চটের বস্তা, কচুরিপানা সংরক্ষণে রয়েছে। রেললাইন কোথাও বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হলে সেখানে বালতি দিয়ে রেললাইনে পানি সেচ, চটের বস্তা ভিজিয়ে ও কচুরিপানা দিয়ে রেললাইন ঢেকে দেওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্রমতে, নীলফামারীর সৈয়দপুর আউটার থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার রয়েছে ব্রডগেজ রেলপথ। এই রেলপথের রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে ৬৬জন ওয়েম্যান। এরমধ্যে ৭জন নারী ওয়েম্যান রয়েছে। ৮টি দলে ভাগ হয়ে এসব ওয়েম্যান নিয়মিত কাজ করছে। রেলপথে রেল স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য দেখাশোনার দায়িত্ব ওয়েম্যানের।
সৈয়দপুরস্থ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ জানান, নীলফামারীর মধ্যে রেলপথে ২০১২ সালের দিকে কাঠের বদলে পিআরসি (সিমেন্ট) স্লিপার বসানো হয়েছে। দীর্ঘ ৫৯ কিলোমিটার রেলপথের সম্পুর্ন পাত (রেললাইন) নতুন। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর শীত মৌসুমে একদিনে চার স্থানে রেললাইনে ফেটে যায়। সেসময় প্রকৌশল বিভাগ এটি একটি স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে ফাটলগুলো মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করেন। ওই সূত্রটি বলেন, রেললাইন ফেটে যাওয়া আর অধিক তাপমাত্রায় বেঁকে ভেঙ্গে যাওয়া এক বিষয় নয়।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের সন্নিকটে দায়িত্বে থাকা ওয়েম্যান রাকিবুল ইসলাম সিসি নিউজকে জানান, মূলতঃ তারা রেললাইন পাহারা দেওয়া, রেললাইন তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব, রেললাইন পরিদর্শনের পাশাপাশি রেলপথের ক্লিপ, হুক, ফিশ প্লেট, পাত, নাট, বল্টু ইত্যাদি যাবতীয় জিনিস ঠিক রয়েছে কিনা তা যাচাই করেন। তিনি বলেন, এক কথায় বলতে পারেন তারা রেলপথের চেকিংয়ের কাজ করেন। যাতে রেল চলাচলে কোন বিঘ্ন না ঘটে এবং কোন দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।
ওয়েম্যান দলের দলনেতা (মেড বা মিস্ত্রি) মমিনুর রহমান সিসি নিউজকে জানান, শীতের সময় রেললাইন সংকোচনের কারণে ফেটে যায়। কিন্তু অধিক তাপমাত্রায় রেললাইন বেঁকে গিয়ে ভেঙ্গে যায়। সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথে বেঁকে গিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার এখন পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা নজরদারি করছি। এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তিনি বলেন, রেললাইনের তাপমাত্রা মাপার জন্য একটি মিটার ছিল কিন্তু বর্তমানে তা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এদিকে রাতের আঁধারে রেললাইনের যন্ত্রাংশ চুরির কারণে কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুরের উর্ধতন উপ সহ-প্রকৌশলী সুলতান মৃধা সিসি নিউজকে জানান, রেললাইনে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ মাসে কাজে গাফলতির জন্য দুইজন ওয়েম্যান ও একজন মিস্ত্রিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেললাইনের তাপমাত্রা মাপার মেশিন অকেজোর কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। এছাড়া রাতের বেলায় রেললাইনের নাট, বল্টু, ফিস প্লেটসহ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় স্থানীয় জনগন এ মাসে চার চোরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।