সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে লায়লা বানু (৪৫) নামে এক ট্রেন যাত্রীর চোখ গুরুতর আহত হয়েছে। রাজশাহীগামী আন্তঃনগর “তিতুমীর এক্সপ্রেস” ট্রেনে আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই দূর্ঘটনা ঘটে। পরে ওই যাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামে। এ সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতলে জরুরি বিভাগ নিয়ে যায়।
আহত লায়লা বানু নীলফামারীর ডোমার পৌর এলাকার হাফিজুর রহমানের স্ত্রী। তিনি রংপুরে স্বামীর চিকিৎসার জন্য ডোমার থেকে সৈয়দপুর শহরে আসতেছিলেন। স্বামী হাফিজুর রহমান চিলাহাটি ডাকঘরের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
হাফিজুর রহমান জানান, রংপুরে চিকিৎসার জন্য তিনি চিলাহাটি থেকে রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে সৈয়দপুরে আসতেছিলেন। এখানে নেমে তিনি বাসযোগে রংপুরে যেতেন। ডোমার স্টেশনে স্ত্রী লায়লা বানুকে তুলে নেন। ওই ট্রেনের ’ক’ বগির ৪৫, ৪৬ নং আসনে স্বামী-স্ত্রী বসেন। খোলা জানালার পাশের আসনে বসেন লায়লা খাতুন। ট্রেনটি নীলফামারী কলেজ-দারোয়ানী স্টেশনের মাঝমাঝি পৌঁছালে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া একটি পাথর সজোরে চোখের উপরে আঘাত করে যাত্রী লায়লার। এতে উপরে অংশ ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। এমতাবস্থায় ট্রেনটি পৌঁছায় পরবর্তী স্টেশন সৈয়দপুরে।
আহত ওই গৃহবধু লায়লা বানু জানান, ট্রেনে পাথরের আঘাতে অনেকের চোখ নষ্ট এবং মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনা আমি শুনেছি। কিন্তু আজ আমার কপালেই এমনটি ঘটলো। আমি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই, আর কোন যাত্রীর বেলায় এমনটি না ঘটে। যাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিতে হবে।
সৈয়দপুর স্টেশনের রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মী আনিছুল ইসলাম জানান, স্টেশনে রক্তাক্ত ওই যাত্রীকে দেখতে পাই। পরে উদ্ধার করে দ্রুত সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। বিষয়টি আমরা উর্ধতণ কর্তৃপক্ষকে অবগত করি।
সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মো. আনিছুল হক জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে চোখে আঘাতের ক্ষত নিয়ে একজন মহিলা ট্রেন যাত্রী চিকিৎসার জন্য জরুরী বিভাগে এসেছিল। ওই যাত্রীর ডান পাশের চোখের উপরের অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ, কে, এম নুরুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।