• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দোকানঘর দখল ও লুটপাটের অভিযোগ

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক ব্যবসায়ীর দোকানঘর লুটপাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। গত পাঁচ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এ সুযোগ নেয় ওই ছাত্রদল নেতার লোকজন। সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা রাজনৈতিক ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইমরানের নেতৃত্বে সাহাবাজ, আব্দুস সালাম, মেরাজসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী কায়দায় এমন ঘটনা ঘটায় বলে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

শহরের সৈয়দপুর প্লাজায় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোকান মালিক মাসুদুর রহমান লেলিনের স্ত্রী লুনা আকতার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোকান মালিকের ছেলে স্কুল ছাত্র ইয়াছিন রহমান অনিক ও শ্বশুর লিয়াকত আলী সরকার।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দখল হয়ে যাওয়া দোকান ঘরটি গত ২০১৩ সালে নগদ অর্থে পজেশনসহ ক্রয় করেন ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান লেলিন। সেই থেকে পাঁচমাথা ফার্মেসী নামে দোকান ঘরে ওষুধের ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি। যথা নিয়মে পৌর হোল্ডিং ট্যাক্স ও রেন্ট পরিশোধ করে আসছে নিয়মিত। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল হলে গত ৫ আগস্ট বিকাল বেলা পাশের দোকানদার সাহাবাজ পলিথিন স্টোরের মালিক সাবের আলী আনসারীর ছেলে ছাত্রদল নেতা ইমরান তার সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে লেলিনের বৈধ মালিকানাধীন ওষুধের দোকান ঘরটি দখল করে নেয়। একই সঙ্গে নগদ টাকাসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতিসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ দফায় দফায় বৈঠক করেও দখলবাজদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেনি দোকান ঘরটি। এমনকি লুটকৃত মালামালও ফেরত দেয়া হয়নি। জবর দখলদার উল্টোদোকান মালিকের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করতে মামলা দায়ের দায়ের করেছে।

সম্মেলনে আরও বলা হয়, পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসের প্রধান অবলম্বন দোকানঘরটি বেদখল হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটি আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ায় পথে বসেছে। এতে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ছেলে মেয়ের পড়ালেখা। বর্তমানে তারা চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের একমাত্র অবলম্বন দোকানঘরটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইমরান আনছারী বলেন, মাসুদুর রহমান লেলিন ২০১৪ সালে আমাদের কাছ থেকে দোকান ঘরটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু শুরুতে ৬ মাসের ভাড়া পরিশোধ করার পর আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে দোকানটি দখলে নেয়। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয় মিছিল থেকে ছাত্র-জনতা লেলিনের বিতর্কিত কর্মকান্ডে দোকানঘরটি ভাংচুর করে। এরপর দীর্ঘদিন লেলিনের অনুপস্থিতির কারণে মালিক হিসেবে দোকানটি বুঝিয়ে লই।

মাসুদুর রহমান লেলিনের স্ত্রী লুনা আকতার সিসি নিউজকে বলেন, ২০১৫ সালে উভয়পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উক্ত দোকান ঘরটির মালিক আব্দুস সালাম মেরাজ বিক্রি করলে আমার স্বামী তা ক্রয় করেন। এর মাধ্যমে লেলিনের দায়েরকৃত আদালতের মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। তখন থেকে মাসুদুর রহমান লেলিন দোকানের প্রকৃত মালিক হিসেবে রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ