সারোয়ার আলম সুমন, বদরগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পৌরশহরের এক বিদ্যালয়ের নাম চাঁদকুঠিরডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রথমে দেখে বোঝার উপায় নেই এটা স্কুল নাকি গোয়াল ঘর। মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থীর দিয়ে কোন রকমে চলে পাঠদান। পাঠদানের নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। ক্লাসে নেই কোন ব্লাক বোর্ড। ভাঙা জরাজীর্ন শ্রেণী কক্ষ। চারদিকে খোলা। দরজা জানালা বলতে নেই কোন কিছু। ঝড়-বৃষ্টিতে শিশুদের হতে হয় নাজেহাল। চেনার জন্য বিদ্যালয়ে নেই কোন সাইন বোর্ড। শিক্ষকরা কখন আসে কখন যায় এ নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। রাতের অন্ধকারে কুঁপির আলোয় শ্রেণী কক্ষে বসে জুয়া আর গাঁজার আসর। আবার পরের দিন সকালে এ অবস্থায় চলে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান।
শনিবার সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে চোখে পড়ে এ করুন দশা। মেঝে খানাখন্দে ভরা। মাঠে আছে গরু-ছাগলের চারন ভুমি। চারদিকে খোলামেলা। নেই টিউবয়েল। শিশুদের পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ঝোপঝাড়ে গিয়ে টয়লেট সারেন শিশুরা। ওইদিন সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয়ে সবেমাত্র উপস্থিত হয়েছেন শিক্ষকরা। এর কিছুক্ষণ আগে আসে ছাত্রছাত্রীরা। আপন খেয়াল খুশি মত বসে তারা ক্লাস করে। আবার কেউ বাইরে খেলছে। এসময় এলাকাবাসী আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, সুষ্ঠভাবে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করেন না কর্তৃপক্ষ। খেয়ালখুশি মত চলে বিদ্যালয়ের পাঠদান। এ সময় তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার বলে, ‘হামার কী দোষ। স্যারেরা ক্লাস না নিলে হামরা কি করমো। সকালে আসি দেখি ব্রেঞ্চিগুলা উলোটপালোট করা। বাইরোত ব্রেঞ্চি উল্টি পড়ি থাকে। সেগুলা আবার হামাক নিয়া আসিয়া ঠিক করি থুবার লাগে।”
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে চাঁদকুঠিরডাঙ্গা রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। গত চার-পাঁচ বছর আগে ঝড়ে বিদ্যালয়ের দরজা জানালাসহ টিন-কাঠ উড়ে যায়। ওই সময় থেকে করুন দশায় চলছে বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি সারাদেশে বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারী ঘোষণার পরও বিদ্যালয়টির উন্নয়ন হয়নি।
প্রধান শিক্ষিকা শিমুল আক্তার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এক বছর আগে বিদ্যালয় ভবন নির্মানের আবেদন করেছি। চেষ্টা করছি নতুন ভবনের জন্য। বরাদ্দ না পাওয়ায় শিশুররাসহ আমরা কষ্ট করছি।
এদিকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ্ মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, সরকারী যে সাহায্যে পাওয়া গেছে তা দিয়ে স্কুলের উন্নয়ন কাজ হয়েছে। তাছাড়া বিগত এমপির মাধ্যমে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াছমিন আক্তার বলেন, কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদকুঠির ডাঙ্গা স্কুলসহ উপজেলার সবচেয়ে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলোর ভবন নির্মানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।