• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে স্ত্রীকে শ্বাষরোধে হত্যার ঘটনায় টঙ্গী থেকে স্বামী গ্রেপ্তার

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভাড়া বাড়িতে দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম আক্তারকে (২৮) শ্বাষরোধ করে হত্যার ঘটনায় জড়িত স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গাজীপুরের টঙ্গী (পশ্চিম) থানা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ।

আজ শনিবার গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর আলমের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহনের জন্য নীলফামারী আদালতে হাজির করা হয়।

সূত্রমতে, নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ডাকবাংলো অফিসার্স ক্লাব হাতিখানা এলাকার মো. মনতাজ আরমানের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম। পেশায় সে একজন চটপটি ও ফুচকা ব্যবসায়ী। তাঁর প্রথম স্ত্রী এবং ছেলে মেয়ে থাকা সত্ত্বেও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুরের (বর্তমানে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের পীরপাড়ার বাসিন্দা) মৃত আব্দুর রহমানের মেয়ে শবনম আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। গত ২৪ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী শরনম আক্তারকে শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের জেরে শ্বাষরোধে হত্যা করে। পরবর্তীতে সে তাঁর স্ত্রীর লাশ ভাড়া বাড়ির ঘরে রেখে তালাবদ্ধ করে গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনার পর শবনম আক্তারের মা ফারাজানা বেগম ও ছোট বোন রুস্কি আক্তার তাঁর খোঁজ খবর করতে থাকেন।

কিন্তু শহরের কোথাও তাঁর সন্ধান না পেয়ে জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে কল দেন। এ সময় দুলাভাই জাহাঙ্গীর আলম শ্যালিকা রুক্সি আক্তারকে বলে, তোর বোনকে মেরে ফেলে রেখেছি। শহরের গোয়ালপাড়া ভাড়া বাসা গিয়ে লাশ নিয়ে যা …। পরে তার দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে দেখেন ভাড়া বাসায় তালাবদ্ধ ঘরে বড় বোন শবনম আক্তারের লাশ খাটের ওপর লেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময় আশেপাশের লোকজন ঘটনাটি সৈয়দপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙ্গে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন। আর এ ঘটনার পর শবনমের স্বামী জাহাঙ্গীর আত্মগোপন করে।

এ ঘটনায় শবনমের মা ফারজানা বেগম তাঁর মেয়েকে হত্যা অভিযোগে জামাতা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামল নং -১৩ তারিখ: ২৫/১২/২০২৪, ধারা পেনাল কোড-৩০২। এ মামলা দায়ের পর থেকে সৈয়দপুর থানা পুলিশ আসামী জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারে জোর প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। অবশেষে ঘটনার চার দিনে ব্যবধানে সৈয়দপুর থানা পুলিশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরের অবস্থান নিশ্চিত হন। এরপর সৈয়দপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফইম উদ্দিনের দিক নির্দেশনায় থানার উপপরিদর্শক (এনআই) মো. আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরের টঙ্গী (পশ্চিম) থানা পুলিশের সহযোগিতা টঙ্গী (পশ্চিম) থানার এলাকার একটি বাসা থেকে আসামী জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। ওই রাতে তাকে সৈয়দপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জাহাঙ্গীর আলম তার দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম আক্তারকে শ্বাষরোধ করে হত্যা কথা স্বীকার করেছে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. ফইম উদ্দিন স্ত্রী হত্যা মামলার আসামী জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আজ শনিবার গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর আলমের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী গ্রহনের জন্য নীলফামারীর আদালতে হাজির করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ