সিসি নিউজ, রংপুর: একদিকে ভর্তি ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ধর্মঘট অন্যদিকে ছাত্রলীগ ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শনিবার অচল হয়ে পড়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এতে ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি সেশনের প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি শেষনের উত্তীর্ণ প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর ভর্তির তারিখ ছিল রোববার। কিন্তু ভর্তি ফিসে ১ হাজার ৭৮০ টাকাসহ হলের নামে ১ হাজার টাকা নেয়ার প্রতিবাদে রোববার থেকে দুই দিনের ছাত্রধর্মঘটের ডাক দেয় প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তারা সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন ভবনে তালা লাগিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এসময় ক্যাম্পাসে ভিসি, প্রক্টরসহ প্রশাসনের কোন কর্তা ব্যাক্তি উপস্থিত ছিল না। ফলে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থান থেকে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানতেও পারেন নি, তাদের ভর্তি হবে কিনা। এদিকে সকাল ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষারের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে হকিস্টিক, রাম দা, রড লাঠি নিয়ে ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের হেয়াত মাহমুদ ভবনের ডানপাশে অবস্থান নেয়। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রদল আহবায়ক হযরত বেলাল ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম লিমনের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ভর্তিচ্ছুকদের স্বাগত জানিয়ে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে কাছে আসে। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে ছাত্রদল সেখান থেকে অবস্থান সরিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আসে। পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আবারও কবি হেয়াত মামুদ ভবনের পাশে গিয়ে জড়ো হয়। এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষারের সাথে সেক্রেটারী গ্রুপের অন্যতম নেতা হিমেলের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। শুরু হয় সংঘর্ষ, হাতাহাতি। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিেিত নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় মনির, সাখাওয়াতসহ ১০ জন আহত হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পাসে একটু গন্ডগোল হয়েছিল। আমরা আসার আগেই তা মিটে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি শিমুল মাহমুদ জানান, ভিসি স্যার ঢাকায় আছেন। আমরাও সবাই বাইরে আছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক সিরাজুদ্দৌলা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রজোটের আন্দোলন অযৌক্তিক। একারনে ভর্তি কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। কিভাবে ভর্তি করা হবে তা পরে জানানো হবে।
এদিকে বিকেলে ছাত্রজোট নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে গেলে প্রশাসন ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে। খবর পেয়ে ছাত্রজোট নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম আবারও বন্ধ করে দেয়।