• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার

সিসি নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আসছে দুর্বৃত্তরা। ককটেল ও পেট্রোল বোমা থেকে বাদ যাচ্ছে না শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত কয়েকদিনে রাজধানীর নিরাপত্তা অবস্থার এই হালের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ১৩ই নভেম্বর ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই। এরমধ্যে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া বিশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৫০ টি থানায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, পুলিশের পক্ষ থেকে রাজধানী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করে আসলেও কার্যত মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্বিচারে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মাক্স ও হেলমেট পরিধানকারী একদল লোক। ডিএমপির পরিসংখ্যান বলছে গত ১১ দিনে রাজধানীর ১৫টি স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

আরও জানা যায়, শুধু ককটেল বিস্ফোরণ করে কিংবা বাসে আগুন দিয়ে ক্ষান্ত নয় দুর্বৃত্তরা। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মোহাম্মদপুর প্রিপারটরি স্কুলের গার্লস শাখায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। ‌ যদিও এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ‌ এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ঢাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। ‌ বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয় সহ প্রধান প্রধান সরকারি অফিসগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা ও মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এসব রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছাড়াও রাজধানীর বনানী, উত্তরা, বাড্ডা, পল্টন ও ধানমন্ডি সহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সহ সম্পূর্ণ ধানমন্ডি এলাকায়। ‌ বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা যেন না ঘটতে পারে সেজন্য গত দুইদিন ধরেই সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক যান চলাচল দেখলে ব্যারিকেডে আটকে তল্লাশি করছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে দেখা যায় অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে রাতের বেলায়। ‌ সেজন্য রাতে যেন কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা না ঘটতে পারে সেজন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকার বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডিএমপি। এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর ঢাকার বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের আগামীকালের কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মসূচিকে মাথায় রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রতিটি থানার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি থানার সামনে ৮ থেকে ১০ জন করে পুলিশ সদস্য বাড়তি মোতায়ন করা হয়েছে। থানায় হামলার আশঙ্কা থেকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম ফারুক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত কয়েকদিন ধরেই রমনা থানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুধু থানায়ই নয়, রমনা থানার অধীনে যেসব এলাকা আছে সেসব এলাকায়ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে ডিএমপির শাহবাগ থানা এলাকায়ও। যদিও থানার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিভিন্ন দাবিদার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এবং স্বাভাবিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে থানার সামনে।

এ বিষয়ে ডিএমপির শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, থানার সামনে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়নে করার বিষয়টি স্বাভাবিক নিরাপত্তা কার্যক্রম। ‌ এছাড়া শাহবাগ থানা এলাকায় প্রায়ই দাবি-ধাওয়া নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংঘটিত হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে এবং বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে থানা সামনে। তবে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীসহ ঢাকায় ১২ প্লাটুন ও আশপাশের জেলায় ২ প্লাটুনসহ মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে গত ১১ দিনের ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ও নয়টি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরও গতকাল ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী দাবি করেন ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কিছু নেই।

ডিএনপির মিডিয়া সেন্টারে ঢাকা মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সংবাদদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের ঘোষিত ১৩ নভেম্বরের লকডাউন কর্মসূচি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ঢাকাবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ১৩ নভেম্বর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা প্রস্তুত আছি। ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো।

১৩ নভেম্বর রাজনৈতিক নিষিদ্ধ দলের সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কা প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, ‘একটি দুটি মোটরসাইকেল থেকে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজ চলছে। ঢাকাবাসী আমাদের সঙ্গে আছে—তাই কোনো অঘটন ঘটলে তা মোকাবিলার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর পুলিশসহ রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিল নিয়ে তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল ১-১১ নভেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৭ টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়া গত দুই দিনে রাজধানীতে ৯টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। এসব ঘটনায় গত দুই দিনে ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

১৩ তারিখ ঘিরে সতর্ক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা রাজধানীতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীদের পাশাপাশি তাদের নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদেরও গ্রেফতার করছি। , আইনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই ধরনের অপতৎপরতা দমন করা হবে। নাগরিকদের অনুরোধ করছি, কেউ যেন গুজবে কান না দেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন।

তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা বিভিন্ন উস্কানি ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তাদের বিষয়ে ডিবি সতর্ক রয়েছে। উৎস: বার্তা২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ