• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে ফল ব্যবসায়ীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ফল ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামানকে (২৭) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের পিতা রিকশাচালক জহরুল হক বাদী হয়ে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) ওই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হচ্ছেন, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলপুকুর বানিয়া পাড়ার মৃত. বাবু’র তিন ছেলে আব্দুর রশিদ (৪৫), মোহাম্মদ আলী (৫৮) ও সেকেন্দার আলী সেকেন (৬০), ছাবের আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন (৩৫), আব্দুর রহমান মাছুয়ার ছেলে মাজেদুল (৩৩), আব্দুর রশিদের ছেলে ইমরান (২৫) এবং পশ্চিম বেলপুকুর কালারভিটার মৃত. বাবুর ছেলে মো. আফজাল হোসেন (৪৫)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ জানুয়ারি কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলপুকুর বানিয়া পাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রশিদের একটি গরু চুরি যায়। এ ঘটনায় ওই গরু মালিক পার্শ্ববর্তী বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিন সোনাখুলী গুয়াবাড়ি গ্রামের জহরুল হকের ছেলে ফল ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামানকে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত বলে তাঁর নামে মিথ্যা অপরাদ রটায়। এরপর গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে গরুর মালিক আব্দুর রশিদ কাশিরাম বেলপুকুর পশ্চিম বেলপুকুর মাঝাপাড়ার জামে মসজিদের মাইকে ফল ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামান ও তাঁর বাবা জহুরুল হকের নাম উল্লেখপূর্বক চোর আখ্যায়িত করে মাইকিং করেন। মাইকে ঘোষণার পর মুহুর্তেই স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক কানাঘুষা শুরু হয়।

ঘটনাটি ফল ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামানের কানে এলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রী আবিয়া ওরফে আবিকে তাঁর মানসিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি স্ত্রীকে নাস্তার জন্য দোকান থেকে আটা আনতে পাঠান। আর এরই ফাঁকে ফল ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামান তার নিজ ঘরে বাঁশের তীরের সঙ্গে গলায় ওড়নায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর তাঁর স্ত্রী দোকান থেকে বাড়িতে ফিরে এসে ঘরে দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে তাঁর স্বামী রোকনুজ্জামানকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। এসময় তাঁর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশেপাশের লোকজন দ্রুত ছুঁটে আসেন।

খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম রেজা মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তারা গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের গ্রেফতার করতে সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। খুব শিগগির তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে গরু চুরির ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা ও বানোয়াট অপবাদ ছড়িয়ে এবং মসজিদের মাইকে চোর হিসেবে আখ্যায়িত করায় ফল ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামান লোক লজ্জায় এবং সম্মানহানী হওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এনিয়ে এলাকাবাসী আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযুক্ত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ