• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন |

রাকসু জিএস আম্মারের ‘মানসিক চিকিৎসা’র দাবিতে ছাত্রদলের মানববন্ধন

সিসি নিউজ ডেস্ক।। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকের টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে শাখা ছাত্রদল আয়োজিত পূর্বঘোষিত এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আম্মার রাকসুর জিএস নির্বাচিত হওয়া পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা দুর্ভাগ্য। যার চোখের দিকে তাকিয়ে আমরা আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলি, কুত্তা আর টোকাই পেটাতে হেডম লাগে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য ধৈর্য ধরে আছি। ধৈর্যের যদি বিচ্যুতি ঘটে, বাংলাদেশের কারও শরীরে মানচিত্র রাখব না।’

প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে রাহী বলেন, ‘অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মানসিক ভারসাম্যহীন, উন্মাদ, সন্ত্রাসী সালাহউদ্দিন আম্মারের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে আমরা ধরে নিব—এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, উপাচার্য এবং দুই উপ-উপাচার্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।’

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটা টার্ম আছে—নার্সিসিজম সিনড্রোম, যেখানে ব্যক্তি বিভিন্ন ভূমিকায় নিজেকে কল্পনা করেন এবং সেই ব্যক্তিত্বকে অনেক বড় মনে করেন। এ ছাড়া ক্যাচ মিল টু আইট নামে একটি মুভি আছে, যেখানে ১৯ বছরের একটি ছেলে নিজেকে কখনো ডাক্তার, পাইলট বা অন্যান্য চরিত্রে অঙ্কুরিত করত এবং সে অভিজ্ঞতা ছাড়াই সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করত। আমাদের রাকসু জিএসের অবস্থাও হয়েছে তেমন। জুলাই আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থে সে যতগুলো কাজ করবে, ছাত্রদল তাঁকে সমর্থন করবে। কিন্তু যখন সে সীমা লঙ্ঘন করবে, তখন সেটাকে বিষয়াদি বলে আখ্যায়িত করব।’

মিঠু বলেন, ‘তিনি ফেসবুকে আলটিমেটাম দিয়ে ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন। কিন্তু ফেসবুক তো কোনো অফিশিয়াল কাজের মাধ্যম নয়। তো তার এই ধরনের কাজ পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। শিক্ষকের কলার টেনে ধরা, ভবনে তালা মেরে দেওয়া, এসব তো কোনো ছাত্রের কাজ না। সে ছাত্র হয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ওই সিনেমার মতো সে নার্সিসিজম সিনড্রোমে ভুগছে। সুতরাং, তার চিকিৎসার দরকার।’

সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আম্মার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে তারুণ্যের উন্মাদনা নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা-তা করে বেড়াচ্ছে। তারুণ্যের উন্মাদনা ও মানসিক বিকার এক নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থির করছে, তাদের দ্রুত বয়কট করুন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সব অপরাধ, মানসিক বিকারগ্রস্তদের বিরুদ্ধে সব সময় প্রস্তুত আছে। মানুষ যখন শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছায়, একপর্যায়ে তাকে বলে—পাগলা কুকুরে কামড়েছে।’

মানববন্ধন শেষে শাখা ছাত্রদল আম্মারের মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।

স্মারকলিপির বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

এর আগে, গতকাল রোববার বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন সালাহউদ্দিন আম্মার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরের সামনে প্যারিস রোডে গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে আম্মার তাঁর ফেসবুক পোস্টে রাবি শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদারকে বেলা ২টার আগে ব্যানার খুলে নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। পরে তাঁর দেওয়া সময় (বেলা ২টা) অতিক্রম করায় তিনি নিজেই ওই ব্যানার খুলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও শেয়ার করেন। পরে এ দিন রাতে আম্মারকে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজকের এই মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে শাখা ছাত্রদল।

উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ