• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন |

মো: আলাউদ্দিন আলীর কলাম “সময়ের ভাবনা”

আমরা সমস্যার চক্রাবর্তে আছি। যেখান থেকে চারিদিকে সমস্যা ছাড়া অন্য কিছু খুব একটা দেখা যায় না। সর্বকালে সবসময়ই সমস্যা চিহ্নিত করার প্রশ্নে সকলেই এর উত্তর দিতে পারি এবং দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু সমাধানের খবর নেই। তার পাশাপাশি আর একটি কথাও বলার প্রচলন আছে, শত সমস্যার মধ্যেও আমি আশাবাদি। এবং তার মতো করে সমাধানও বলছেন। কেউ আরও একধাপ এগিয়ে প্রায়ই বলে থাকেন ‘আমি আশাবাদী মানুষ, হতাশ হতে চাই না’। আলোচনায় তিনিও
সমাধান বলছেন। এ প্রসঙ্গে আমার দেখা একটি বাস্তব উদাহরণ বলতে চাই। আগেই বলে নেওয়া ভালো কাউকে বিন্দুমাত্র অসম্মান করার জন্য কথাটি বলছি না। দীর্ঘ সময় কথা হলো সত্তরের কোটায় বয়স এমন একজন ব্যক্তির সাথে যিনি সারাজীবন প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ভদ্রলোক পেশায় উকিল। আমার প্রশ্ন ছিল, দীর্ঘদিন ধরে জনকল্যাণে কাজ করার জন্য চেষ্টা করছেন তার সাফল্য কেমন। উত্তরে বললেন, ‘অনেক অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আমি হতাশ নই, একদিন সাফল্য আসবেই।’ প্রশ্ন ছিল, সফল হতে গেলে তো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পার্টিকে পেতে হবে, জনসাধারণের মধ্যে তেমন কোন সমর্থন তো আপনাদের প্রতি দেখা যায় না, তাহলে কীভাবে সাফল্য আসবে। তিনি বললেন, ‘জনগণ বোঝে না, যেদিন বুঝবে সেদিন সফল হবো।’ আর একটি প্রশ্ন ছিল, কতদিনে এ সাফল্য আসবে বলে আপনি ধারনা করছেন। তিনি বললেন, ‘এর কোন সময়সীমা বলা যাবে না। আমার জীবদ্দশায় না হলে তার পরে হবে।’
এখানে আশাবাদিদের একটি ধরন বললাম। সত্যিই তার কোন হতাশা বা আক্ষেপ নেই বলেই আমার মনে হলো। এরকম নানা ধরনের আশাবাদি মানুষ আছেন বলেই আমার ধারনা। আমাদের চারিদিকে আশাবাদী মানুষ আছেন, নিরাশ মানুষ আছেন, আছেন আশাবাদী হয়ে উঠেও নিরাশ হয়ে যাওয়া মানুষ, আবার নিরাশার মধ্যেও আশাবাদী হয়ে ওঠা মানুষ।
সবকিছু নিয়েই চলছি আমরা দিনের পর দিন, যুগের পর যুগ। দিন শেষে ব্যক্তি, পরিবারের টিকে থাকার অর্জনটুকু নিয়েই কেউ সন্তষ্ট হচ্ছি অথবা হতে পারছি না তা নিয়ে থাকছে আক্ষেপ। কিন্তু কোনভাবেই সমস্যা সমাধানের উপায় হচ্ছে না, আশার আলো জ্বলে আর নেভে।
আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে একবারে সব সমস্যার সমাধান করতে চাওয়া বা পেতে চাওয়া, বিলম্বের কোন সুযোগ কেউ দিতে চায় না। এ বিষয়ে ধৈর্য্য আমাদের ব্যাকরণে নেই। আমাদের মধ্যে এরকম ভাবনা যে হয় তারও তো কারণ আছে। না পাওয়া, প্রতারিত হওয়া আর বঞ্চনার ইতিহাস আমাদের পিছু ছাড়ছে না। অনেক পিছনের কথা বাদ দিয়ে স্বাধীনতার পর থেকেই যদি দেখি, নিশ্চয় মনে আছে ’৭২ সালে শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরে আসেন সেসময় পাহাড়সম জনপ্রিয়তা ছিল তাঁর। পরবর্তীতে দেশের ক্ষয়ক্ষতি, নানাবিধ দুর্দশার কথা উল্লেখ করে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি৷ বলেছিলেন, ‘তিন বছর কিছু দিবার পারুম না।’ সত্যিই তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, আইন-শৃঙ্খলাসহ সবকিছুই খুব খারাপ অবস্থায় ছিল সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেজন্য সবার ত্যাগ, তিতিক্ষা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে দেশ গড়ায় ভূমিকা রাখতে হবে সেটাই তো বাস্তবতা ছিল। সাধারণ মানুষ সেকথা মেনে নিয়েছিল। বাস্তবে কী হলো? চারিদিকে যখন অভাবের হাহাকার, তখন শাসক দলের লোকজন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে, তাদের সহযোগী শাসক শ্রেণী দ্রুত গতিতে তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারছেন। জনসাধারণের কষ্টের সীমা নেই অপরপক্ষে শাসক দল, সরকার, রাষ্ট্রের সাথে কর্তৃত্বকারীদের দখল বানিজ্য আর বহুবিধ অবৈধ আয়ের মহাসমারোহ। কেউ হয়তো বলবেন শেখ মুজিব ভালই ছিলেন, দলের লোকজন খারাপ। এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। হ্যাঁ, ওই যুক্তি মানা যেত যদি তিনি ঘোষনা দিয়ে বলতেন, দেশবাসী আমি আপনাদের ভাল করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার দল ও অন্যরা আমাকে সহযোগিতা করছে না। আমি
অপারগ, কী করবো আপনারাই বলেন। সেকথা তিনি বলেননি। বরং দল ও সরকার চরম স্বৈরাচার হয়ে উঠলো, তাকে চিরস্থায়ী করতে চরম পন্থা অনুসরণ করেছেন। সে বর্ণনা সবার জানা। তার ফলাফল যা হয়েছে তাও আমরা দেখেছি।

মাঝখানে বহু ধরনের বহু সরকার চলে গেছে। তাদের ভালো মন্দ যত আলোচনা করি এক সরকার থেকে অন্য সরকারের ক্ষেত্রে নানা বিষয়ে তারতম্য থাকলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলানোর ক্ষেত্রে মৌলিক কোন পার্থক্য সৃষ্টি হয়নি। তাই আর কোন আলোচনা না করে শেষের দিককার একটি উদাহরণ দিতে চাই। ’২৪ এর গণঅভ্যুন্থানের পর নিজের কোন দল না থাকা সত্ত্বেও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ড. ইউনূস সাহেব সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মানুষের মনে বেশ আশার সঞ্চার হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা দলের ব্যাপারে নানা ধরনের নেতিবাচক আলোচনার ফলে নাগরিক সমাজের
ব্যক্তিদের প্রতি বেশ ইতিবাচক ধারনার সৃষ্টি হয়েছিল। সেজন্য তেমন যুক্তিতর্ক ছাড়াই মানুষের মনে আশা জাগাটা অস্বাভাবিক ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই বহুবারের মত তাঁর কাছে মানুষের আশা প্রত্যাশার সীমা ছিল না। সময় যত গড়িয়েছে ততই মানুষের আশা ভঙ্গ হয়েছে। এরকম একটি সময়ে একজন পত্রিকা সম্পাদক তার একান্ত সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। লম্বা সাক্ষাতকারে দেওয়া বক্তব্যে এটা বোঝা যায় সরকার পরিচালনার কাজে তিনি হতাশার মধ্যে ছিলেন। জুলাই অভ্যুন্থানে যারা
শহীদ হয়েছিলেন তাদের পরিবারকে ৩০ লক্ষ করে অর্থ সহায়তার সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রায়োরিটি ও অর্থের যোগান থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন অগ্রগতি মোটেই সন্তোষজনক ছিল না। এই বিষয়ে প্রশ্নোত্তরে তিনি আমলাতন্ত্রের কোন দোষ সরাসরি না বলে বলেছেন, এগুলো হচ্ছে আদেশ কার্যকর করার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা। অর্থাৎ সরকার প্রধান হওয়া সত্ত্বেও তার কথা বা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়মত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে সে সময়ও তিনি বলার মত সাহস হারিয়েছিলেন। এ বিষয়টি কী শুধু ড. ইউনূস সাহেবের ক্ষেত্রেই ঘটলো না অন্যদের ক্ষেত্রেও ঘটে কিšদ তা প্রকাশ হয় না। নিশ্চয় এটা ভাবনার ব্যাপার। তখনই তো তাঁর বোঝা উচিৎ ছিল যত দিন যাবে ততই ব্যর্থতার দায় বাড়বে। কেন তিনি পারছেন না, কী অবস্থা এই না পারার জন্য দায়ী সেটা খোলাখুলী দেশবাসীকে জানিয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করেননি। কেন এমন হয় সেটা বোঝার জন্যই এ আলোচনার অবতারনা।
আমার মনে হয় আমাদের দেশে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যান শুরু থেকেই তারা সব সময় ভয়ে থাকেন ক্ষমতা হারানোর। ফলে সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করে কোন কাজই করতে পারেন না। এক সরকার যেসব কারণে ব্যর্থ হয় পরের সরকার মূলত: সেই একই ধরনের কাজ করে এবং আবার ব্যর্থ হয়। ব্যর্থতার ধরনের পার্থক্য থাকলেও মৌলিক কোন পার্থক্য থাকে না। সরকার পরিচালনাকারিগণ ভয়ে থাকার আসল কারণ হচ্ছে- কখনই তারা সমস্যা সমাধানে আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণভাবে বলীয়ান ছিলেন
না। না থাকার কারণ হচ্ছে- সমস্যা ও তার সমাধান বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারনা কম থাকা। ফলে ক্ষমতার আসনে বসেই পরনির্ভর হতে বাধ্য হয়ে পড়েন। তার সাথে ব্যক্তির নীতি নৈতিকতার জোর কম থাকলে তিনি দুর্বল হতে বাধ্য। ক্ষমতা গ্রহণকারীগণ নিজেরাই দুর্বল থাকেন তাই প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে পরনির্ভর হওয়া ব্যতিত সামনে কোন উপায় থাকে না। ধরা যাক দুর্নীতি এদেশের বড় সমস্যা। সমাধানের উপায় নিয়ে কথা উঠলেই সবাই বলবেন, দুদক শক্তিশালী
করতে হবে, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সবাই ভালো ভালো কথা বলবেন। এগুলো কে করবেন, কাকে দিয়ে করাবেন। যাকে যেখানে দেওয়া হবে তিনি সেখানেই নতুনভাবে দুর্নীতি করার নতুন পন্থা আবিষ্কার করবেন। তার মানে কী দাঁড়ালো। সামান্য কিছু হেরফের হলেও যেমন ছিল তেমনই রইলো। এসব বুঝেই এখন অবশ্য দুর্নীতি বন্ধের কথা কেউ বলেন না। এখন সুন্দর করে বলেন দুর্নীতি সহনীয় মাত্রায় আনতে হবে বা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। এর মানে হলো ঘোড়ার লাগাম হাতে থাকবে, কখন গতি বাড়াতে হবে, কখন কমাতে হবে বা থামাতে হবে সবই যাতে হাতে থাকে সেরকম পারদর্শী হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। এটাই চলমান ধারাবাহিকতা। আমাদের এটা বুঝতে হবে কোন ম্যাজিক দিয়ে শুধু দুর্নীতি নয় প্রকৃতপক্ষে কোন সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব নয় তবে কিছু সময়ের জন্য চমক সৃষ্টি করা যায়। সে রকম উদাহরণ আগে থেকেই কমবেশি আছে। সমস্যার তালিকা অনেক লম্বা, সেটাও মানতে হবে। কোনটিই অপ্রয়োজনীয় তেমন বলার কোন সুযোগ নেই তাও ঠিক। যেভাবে জোড়াতালি দিয়ে শত সমস্যার মধ্যে কিছু কিছু কাজ করে সবকিছুই বেশ চলমান রাখা যাচ্ছে সেই দক্ষতাকেও মূল্যায়ণ করতে হবে এবং কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ মেয়াদের পরিকল্পনা (Long Term Planning) এবং স্বল্প মেয়াদের (Short Term Planning) করতে হবে প্রথমে। যুক্তিযুক্ত ভাবে কিছু কাজকে অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। তার মধ্যে এক দুটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (Top Priority) হিসেবে রাখা। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রাখার ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে সেই কাজ, যে কাজের অগ্রগতি বা
সাফল্যে সমগ্র দেশে সবচেয়ে বেশি মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, নীতি-নৈতিকতা, সক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি অধিক ভূমিকা রাখবে। আমার বিবেচনায় তার একটি হতে পারে শিক্ষা। সরাসরি শিক্ষার সাথে জড়িত দেশের আপামর জনসাধারণ।
খেয়াল করুন দেশে শত সমস্যার মধ্যেও পরিবারের একটি/দুটি ছেলে মেয়েই শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের মাধমে একটি পরিবারকে স্বনির্ভর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এজন্য ঐ পরিবারটিকে ১৫ থেকে ২০ বছর লড়তে হচ্ছে। তাই রাষ্ট্র, সরকার যদি ৩০-৪০ বছরের পরিকল্পনা করে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, পুরো দেশ এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাবে যেখানে ভিন্ন একটি প্রজন্ম সৃষ্টি হবে। বর্তমান নেতৃত্ব দেশের ভবিষ্যত স্বপ্ন বিবেচনায় যাত্রার একটি ভিত্তি সৃষ্টি করবেন। ভালভাবে এ যাত্রা শুরু করা গেলে থামানোর কোন সুযোগ থাকবে না। অন্যান্য সকল সেক্টরেও উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত
থাকবে। কাজটি কয়েকটি বাক্যে বলা সম্ভব হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে অনেক কথা, অনেক বিষয়। সেগুলো না হলে এটা ভাবাই বৃথা হবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কথা বিবেচনায় রেখেই সকল সেক্টরের উন্নয়নের চলমানধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এরকম বড় কাজ করার প্রথম চ্যালেঞ্ছ হলো নেতৃত্বকে সৎ থাকা। সবকিছুতে সততা বজায় রাখতে হবে।
যেকোন ব্যর্থতাও জনসাধারণ মেনে নেয় যদি তাদের কাছে সত্য তুলে ধরা যায়। অসততা যত গোপনেই ঘটুক তার প্রকাশ থাকবেই। সেটা কেউ মানে না। নেতৃত্ব সৎ থাকলে দল সৎ হতে বাধ্য, দল সৎ হলে প্রশাসনসহ সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সৎভাবে চলবে। সবার মধ্যেই জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। এক দলের সাথে আর দলের প্রতিযোগিতা হবে সততার, দক্ষতার, দেশের কাঙ্খিত ভবিষ্যত বিনির্মানে কার্যকর কর্মপন্থা সৃষ্টির। সময় যত দীর্ঘই লাগুক নুন্যতম জাতীয় ঐক্যসহ সে পথে হাঁটার বিকল্প নেই।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষার মেরুদন্ড কী? দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য সেটা বোঝা দরকার। এটা অবশ্যই একটি বিস্তৃত আলোচনা। এখানে এইটুকু বলে রাখতে চাই যে, আধুনিক বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে অগ্রসর দেশগুলো উন্নয়নের যে শিখরে উঠেছে তাদের অনেক বিষয়ের সাথেই আমাদের তূলনা চলে না। তবুপ্রতিযোগিতার এই বিশ্বে অগ্রসর হওয়ার জন্য সবকিছু বিবেচনায় রেখে মানসম্মত শিক্ষার জন্য পরিপূর্ণ একটি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দরকার। সেটিই শিক্ষার মেরুদন্ড। এই মেরুদন্ড শক্ত করা সময়ের দাবী।
সরকার তো ক্ষমতায় যায় পাঁচ বছরের জন্য, সেই সরকার এটা করবে কীভাবে? অবশ্যই পরবর্তী সব সরকারই তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। বুঝতে হবে পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় না গেলেও কাজটি যাতে চলতে থাকে সেজন্য পরিকল্পনার শুরুতেই বিরোধী রাজনীতিকদের মতামতসহ জনমত গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকার এসেই আগের সরকারের কর্মসূচী যুক্তিহীনভাবে পরিবর্তন ও বাতিল করার সংস্কৃতি বদলাতে হবেই।

মো: আলাউদ্দিন আলী
উন্নয়ন কর্মী, নীলফামারী
১২ মার্চ ২০২৬


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ