• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

কিশোরগঞ্জে খাস জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা

সিসি নিউজ।। নীলফামারীতের হামলার শিকার হয়েছেন চ্যানেল ওয়ান-এর রিপোর্টার আবু সাইদ অপু। জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রেনেড বাবু কর্তৃক প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন। এ ঘটনা শুনে তাৎক্ষনিক প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিকগণ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। হামলার ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে । প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, কিশোরগঞ্জ প্রধান বাজারের রাস্তার সাথে ১৫ শতাংশ ও পুকুরের ২৫ শতাংশসহ মোট ৪০ শতাংশ জমি দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী গ্রেনেড বাবু। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটি সম্প্রতি তদন্ত কাজ করেছে। এ নিয়ে চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু রোববার দুপুরে চেয়ারম্যান কর্তৃক দখলকৃত জমির উপর একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার জন্য আসেন। দখলকৃত জমির কাছে গিয়ে তথ্য ও ভিডিও চিত্র নেয়ার সময় জমিগুলো চেয়ারম্যান গ্রেনেড বাবুর দখলে আছে বলে স্থানীয়রা রিপোর্টারকে জানান। গ্রেনেড বাবুর জমি দখলের তথ্য নেয়ার সময় চেয়ারম্যান গ্রেনেড বাবুর লোকজন চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু, ক্যামেরাম্যান তাজুল ইসলামের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাথারী ভাবে কিলঘুষি ও মারডাং করে। এতে সাংবাদিক অপু মুখে আঘাত পান। হামলাকারীরা এ সময় পিটু ক্যামেরা ও টাইপোটসহ লাইভ ডিভাইস মেশিন ক্যামেরাম্যান ও সাংবাদিকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে প্রাণে রক্ষা করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদশী মিনারুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের নামে একটি এজাহার দাখিল করেছেন। ঘটনা শুনে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় সাংবাদিকগণ সেখানে ছুটে যান ও তাৎক্ষনিক হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলা মেনে নেয়া হবে না। আমরা দোষীদের গ্রেফতারসহ শাস্তির দাবী করছি।
চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু জানান, তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ শেষে ফেরার সময় চেয়ারম্যানের বাহিনী আমার উপর অর্তকিত হামলা চালায়। এসময় তারা ক্যামেরার লেন্স ভাংচুর, পিটু ক্যামেরা ও টাইপোটসহ লাইভ ডিভাইস মেশিন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী ওরফে গ্রেনেট বাবু বলেন, ঘটনার সময় তিনি রংপুর ছিলেন। চ্যানেল ওয়ানের ওই সাংবাদিকের সাথে ছিলেন আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন। তারা বারবার আমার নামে অকথ্য ভাষায় কথা বললে উপস্থিত লোকজন তা প্রতিবাদ করে। তিনি বলেন, সাংবাদিক আহত হলে তিনি এজাহার করবেন, কিন্তু তিনি বাদী না হয়ে কৌশলে আমাকে হেনস্তা করার জন্য প্রতিপক্ষের লোক দিয়ে মিথ্যা এজাহার দায়ের করেছে। অথচ আমার দু’জন লোক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাই আমি বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, সাংবাদিককে হামলার ঘটনায় এজাহার পেয়েছি। মামলা পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ