• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

উদ্বোধনের আগেই পরিত্যক্ত সৈয়দপুর পৌর মার্কেট

।। মোহাম্মদ সজিব।। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট নির্মাণের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চালু হয়নি। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা বিশাল এই স্থাপনাটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল শহর অপরিকল্পিতভাবে মার্কেটটি তৈরি করা হয়েছে। তাই ক্রেতা সংকটের চিন্তায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম। ফলে এখানে দিনের বেলায় কুকুরের অবাধ বিচরণ। আর সন্ধার পর সেখানে জড়ো হয় মাদকসেবী ও অসামাজিক চক্রের সদস্যরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং নিয়মিত তদারকি না থাকায় এলাকাটি ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনেও মার্কেটটি চালুর না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে দোকান বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীদের।

সৈয়দপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার উদ্যোগে মূল শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে শহরের মিস্ত্রিপাড়া বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় পৌরসভার নিজস্ব জমির ওপর নির্মাণ করা হয় এই সুপার মার্কেট। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। অবশেষে ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও আজও চালু হয়নি মার্কেটটি।

সূত্রটি আরো জানায়, একতলা বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই মার্কেটে ৯০টি সুসজ্জিত দোকান ছাড়াও দুটি টয়লেট ব্লক, উন্নত সড়কবাতি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং সুবিধা, মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেম এবং অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবে ব্যবহার না হওয়ায় পুরো স্থাপনাটি ৩ বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উদ্বোধনীর অপেক্ষায় থাকা এ আধুনিক পৌর মার্কেটের দেওয়ালে ও চত্বরে শেওলা জমেছে। ভবনের অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে জন্মেছে আগাছা ও পরগাছা।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবু মিয়া বলেন, “ এত টাকা খরচ করে গড়ে তোলা এ আধুনিক মার্কেটটি বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটছে। এতে করে পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”

রনি নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণেই এখনো চালু হয়নি মার্কেটটি। দোকানের জন্য টাকা জমা দিলেও এখন অর্থ ফেরত চাইতে গিয়ে নানা অজুহাতের মুখে পড়তে হচ্ছে। টাকা ফেরত চাইলে ১০ শতাংশ কর্তনের কথা বলা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে তাড়াহুড়া করে এত টাকা খরচ করে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। মার্কেটটি চালু হলেও মূল শহর থেকে এত দূরে হওয়ায় তা ক্রেতাদের আকর্ষন করতে পারবে কিনা তা সন্দেহ রয়েছে। তাই মার্কেটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সাথে। তিনি বলেন, যেহেতু আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মার্কেটটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে তাই এ সম্পর্কে আমার সম্পূর্ণটা জানা নেই। মার্কেটের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের কাছ থেকে খোজ-খবর নিয়ে মার্কেটটি চালুর উদ্যোগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ