।। রাইসুল ইসলাম রোমান।। দীর্ঘদিনের অবহেলায় আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়া সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়াম মাঠে অবশেষে শুরু হয়েছে জঙ্গল অপসারণের কাজ। মাঠের চারপাশ পরিষ্কার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে। তবে তাদের দাবি, সাময়িকভাবে আগাছা কাটলেই হবে না; শেকড়সহ পরিকল্পিতভাবে জঙ্গল অপসারণ করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ভেন্যু সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়াম শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, এ যেন অসংখ্য ক্রীড়া প্রতিভার আঁতুড়ঘর। এখান থেকেই উঠে এসেছেন জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অনেক ক্রীড়াবিদ। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে পাড়া-মহল্লার শিশু-কিশোর, তরুণ এবং বিভিন্ন বয়সের প্রায় তিন শতাধিক খেলোয়াড় এই মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করেন।
বিশেষ করে কিশোর ফুটবল একাডেমি, সাংবাদিক একাদশ সৈয়দপুর, রাইজিং ক্রিকেট একাডেমি, সৈয়দপুর ক্রিকেট একাডেমি, বাংলা লায়ন ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অনুশীলন করে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠের চারপাশ আগাছা, কাঁটাঝোপ ও জঙ্গলে পরিণত হওয়ায় অনুশীলনে চরম ভোগান্তির শিকার হন খেলোয়াড়রা। বল জঙ্গলের মধ্যে চলে গেলে তা খুঁজে আনতে গিয়ে খেলোয়াড়দের ঝুঁকি নিতে হতো। বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রবের কারণে ছোট ছোট খেলোয়াড়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করত। ফলে অনুশীলনের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছিল।
খেলোয়াড়রা জানান, মাঠের চারপাশের জঙ্গলে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের বসবাস ছিল। প্রতিদিন ভয়ের মধ্যেই অনুশীলন করতে হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিকভাবে আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবশেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পর মাঠের চারপাশের আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এতে খেলোয়াড়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তবে খেলোয়াড়দের আশঙ্কা, বর্তমানে শুধু ওপরের অংশ কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে। শেকড় অপসারণ না করায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আগাছা আবারও গজিয়ে উঠবে। তাই সৈয়দপুরের সকল ক্লাব, একাডেমির খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠকদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে শেকড়সহ জঙ্গল অপসারণ করে মাঠটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি মাঠের ঘাস কাটা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলারও দাবি জানান তারা।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়াম এ অঞ্চলের ক্রীড়ার প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকেই নতুন নতুন প্রতিভার জন্ম হয়। তাই খেলোয়াড়দের নিরাপদ ও উন্নত অনুশীলনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই স্টেডিয়াম থেকে ভবিষ্যতেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও অনেক ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে।
জঙ্গল অপসারণের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন খেলোয়াড়, কোচ, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাদের প্রত্যাশা, সাময়িক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়ামকে স্থায়ীভাবে জঙ্গলমুক্ত ও আধুনিক ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাহলেই খেলোয়াড়দের এই আঁতুড়ঘর আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং নতুন স্বপ্ন বুনবে শত শত উদীয়মান ক্রীড়াবিদ।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, খেলোয়াড়দের অনুশীলনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজনে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার উপযোগী মাঠ হিসেবে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হযেছে।