নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে শ্রেনী কক্ষের অভাবে খোলা আকাশের নিচে চলছে শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে শীত, বর্ষা আর গরমে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করায় অসুস্থ্য হয়ে শিশুরা স্কুল বিমুখ হয়ে পড়ছে।
উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বেতগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক শ্রেনীর প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে। শতবর্ষের পুরানো এই বিদ্যালয়টিতে মোট টিনসেড ও পাকা ভবন মিলে শ্রেনী কক্ষ রয়েছে মাত্র পাঁচটি।
প্রায় ৬শ শিক্ষার্থীর জন্য নগন্য সংখ্যক শ্রেনী কক্ষ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হিমশীম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু রমেশ চন্দ্র রায় জানান, ১৯২৫সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টিতে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে হারে শ্রেনী কক্ষ বাড়েনি। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টিতে অষ্টম শ্রেণী খোলায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
বাধ্য হয়ে শিশুদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, শ্রেনী কক্ষের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণসহ শিক্ষক সল্পতা রয়েছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েও কোন ফল হয়নি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান রুবেল বলেন, শীত, গ্রীস্ম, বর্ষায় খোলা আকাশের নিচে শিশুদের ক্লাস করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয় গত বর্ষায় পুরাতন ভবনের শ্রেনী কক্ষ থেকে সাপ বের হওয়ায় দীর্ঘ দিন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ভয়ে আসেনি।
যোগাযোগ করা হলে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা জানান, যেসব স্কুলে শ্রেণী কক্ষ সংকট রয়েছে সেগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। ওই স্কুলটিও তালিকায় অন্তভুক্ত করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। নির্দেশনা আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।