নায়করাজ রাজ্জাকের অসুস্থতা নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, নায়করাজ রাজ্জাক স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে পড়েছেন। অতীতের সব স্মৃতি ভুলে গেছেন তিনি। পরিবারের কাউকেই চিনতে পারছেন না।
কিন্তু এ প্রসঙ্গে রোববার রাজ্জাকের ছোট ছেলে সম্রাট সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “এ ধরনের মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় আমরা খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। বাবা স্মৃতিশক্তি ফিরে পেয়েছেন কি না, অনেকেই তা ফোন করে জানতে চাইছেন। কিন্তু আমি সবার উদ্দেশে বলতে চাই, এটি একটি গুজব মাত্র। বাবা সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের ১৩০৬ নাম্বার কেবিনে ভর্তি রয়েছেন। ঠিকঠাকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছেন, হেঁটে বেড়াচ্ছেন। এমনকি হাসপাতালের অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে কথাও বলছেন। আগামীকাল (আজ) বাবাকে বাসায় নিয়ে যাব।”
শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ার কারণে রাজ্জাককে ৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ডাক্তার জুবায়ের আহমেদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। নায়করাজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সম্রাট আরো বলেন, “বাবা কয়েকমাস ধরেই অসুস্থ। চার মাস আগে তিনি থাইল্যান্ড থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসেন। এরপর গত মাসে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাই। ২৯ মার্চ হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর হঠাৎ করে আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে তাকে দ্বিতীয়বারের মতো হাসপাতালে ভর্তি করি।”
তিনি আরো বলেন, “বাবা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাই তাকে ধুলোবালি ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশে কিছুদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কর্তব্যরত ডাক্তার। দেশবাসীর কাছে বাবার সুস্থতা কামনা করে দোয়া চাইছি।”
রাজ্জাককে হাসপাতালে দেখতে ইতোমধ্যেই অনেকেই ছুটে গেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন- অভিনেতা মিজু আহমেদ, নির্মাতা ছটকু আহমেদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ৭২ বছর বয়সী কিংবদন্তি এ চলচ্চিত্র অভিনেতা ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। এরপর তিনি চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন। ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ময়নামতি’, ‘রংবাজ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘বেঈমান’সহ এ পর্যন্ত তিনি তিন শতাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন রাজ্জাক